লক্ষ্মীপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মমিন উল্যা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ সময় তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বুধবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার বিরাহিমপুর গ্রামের মোহন ও রশিদপুর গ্রামের তারেক।
মামলার রায়ের সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহন আদালতে উপস্থিত ছিল না, তিনি পলাতক। অন্য আসামি তারেক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৭ জুলাই রাতে রামগঞ্জ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামে এসে আসামিরা চালক মমিনকে হত্যা করে। একপর্যায়ে তারা অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় পরে সড়কের ওপর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন নিহতের বাবা রামগঞ্জ উপজেলার আজিমপুর গ্রামের সুলতান আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকালীন পুলিশ লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া সড়ক থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।
তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি মোহন ও তারেকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামিদের যাবজ্জীবন সাজা ও জরিমানা করেন।
অন্যদিকে একই আদালত অন্য একটি মাদক মামলায় এক যুবকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এই মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত গিয়াস টেকনাফের পানখালি এলাকার বাসিন্দা।
লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর টেকনাফ থেকে পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার পথে লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার থেকে গিয়াসকে আটক করে পুলিশ। পরে হাসপাতালে নিয়ে তার পেটের ভেতর থেকে ১ হাজার ১২৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
ওই মামলায় আদালত তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।
