রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ড

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০২:১১ এএম

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) নেতা মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবেই এ হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে বলে মনে করছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল। দ্রুত মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করারও তাগিদ দিয়েছে তারা।

দেশি ও বিদেশি কূটনীতিকরা মনে করছেন, মুহিবুল্লাহ হত্যা বড় একটি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের এখন কাজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘাপটি মেরে থাকা এজেন্টদের খুঁজে বের করা এবং প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরালো করা। এদিকে কক্সবাজারে উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারাও মনে করেন প্রত্যাবাসনবিরোধীরাই মুহিবুল্লাহকে হত্যা করিয়েছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা বড় একটা ষড়যন্ত্র। সরকারকে ভালোভাবে মোকাবিলা করতে হবে। প্রত্যাবাসনে কী আর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, প্রত্যাবাসন তো এমনিতেই হচ্ছে না।’

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর হত্যাকা- প্রমাণ করে যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন চায় না। যারা চায় না তারা খুব স্বভাবিকভাবেই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ সরকারের এখন উচিত হবে এ বিষয়টিকে কঠোরভাবে দমন করা এবং আন্তর্জাতিক মহলেরও উচিত হবে এ বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবদুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড সবার মধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বা দেশ আছে যারা এ প্রত্যাবাসন চায় না। আর ক্যাম্পের ভেতরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি করার পক্ষও তৈরি হবে। ঘটনায় ক্যাম্পের ভেতরে নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়েছে। এ ধরনের ধূর্ত বা অন্য দেশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে সেসব ব্যক্তির চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। মুহিবুল্লাহর হত্যার সঙ্গে শুধু বাংলাদেশের মাটিতেই লুকায়িত আছে তারা নয়, এখানে “ট্রান্সন্যাশনাল এলিমেন্টস” এখানে কাজ করছে। ভূ-রাজনৈতিকভাবে এই যে ঝুঁকিটা তৈরি হচ্ছে, এটা অবশ্যই আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ ছিলেন প্রত্যাবাসনের পক্ষের লোক। তিনি সাধারণ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। সাধারণ রোহিঙ্গারা মুহিবুল্লাহর কথা শুনত। হয়তো এ কারণেই তিনি প্রত্যাবাসনবিরোধীদের শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন। ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। সব তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং এনজিও নেতা আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ‘মুহিবুল্লাহ হত্যায় মিয়ানমারের হাত থাকতে পারে এবং এটা সুপরিকল্পিত ঘটনা। তাদের বক্তব্য মুহিবুল্লাহকে হত্যার মধ্য দিয়েই রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে অস্ত্রধারীরা।’

মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিঘ্নিত হতে পারে এমন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। টুইটারে তিনি বলেন, ‘মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডে আমি মর্মাহত ও শোকাহত। তার পরিবার, বন্ধু এবং রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য একটি মর্মান্তিক ক্ষতি। তাদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত