শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লন্ডনে শরণার্থী ইমাদের সিরিয়ান রেস্টুরেন্ট

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৭ পিএম

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে সেখান থেকে পালিয়ে লন্ডন এসেছিলেন ইমাদ অর্ণব। শুরুতে খাবারের অর্থ জোগানো তার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গাড়ি ধোয়ার কাজ নিয়েছিলেন। আজ তিনি লন্ডনে ইমাদ’স সিরিয়ান কিচেনের মালিক। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

ফালাফেল

মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় একটি খাবার ফালাফেল। খাবারটির অনেকগুলো ধরন আছে। একেক জায়গায় পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী একেকভাবে বানানো হয়। সিরিয়ান শেফ ইমাদ অর্ণব তার নিজের রেস্টুরেন্টে শুধু এক ধরনের ফালাফেল রেসিপি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমার খাবার সব সময় খাঁটি। অন্যান্য ডিশে হয়তো নতুন কিছু চেষ্টা করি, কিন্তু ফালাফেলের বেলায় একদম নয়। সিরিয়ায় ফালাফেলকে পবিত্র মানা হয়। তাই আমি বাড়িতে যেভাবে ফালাফেল খেতাম, আমার রেস্টুরেন্টেও ঠিক সেই স্বাদটাই রাখি।’

ইমাদের সিরিয়ান রান্নাঘরে ফালাফেল বানানো হয় ঐতিহ্যবাহী সিরিয়ান পদ্ধতি মেনে। লন্ডনের সোহো শহরের কিংলি কোর্টে ইমাদের রেস্টুরেন্ট। একমাত্র তার এখানেই আসল ফালাফেল বানানো হয়। ইমাদ বলেন, ‘এ খাবারটি মূলত বানানো হয় ছোলার ডাল দিয়ে। মসলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জিরা ও ধনে। সঙ্গে থাকে তিলের গুঁড়ো। ডোনাটের মতো গোল করে মাঝের জায়গাটুকু খোলা রেখে খাবারটি বানানো হয়। এরপর সেটি সুমাকে (লাল আঙুর শুকিয়ে গুঁড়ো করে নেওয়া মসলা) গড়িয়ে নিয়ে ভাজা হয় ফুটন্ত তেলে। ভাজা শেষে ফালাফেল পরিবেশন করা হয় তাহিনি (তিলের এক ধরনের মিশ্রণ) এবং সালাদের সঙ্গে। এর স্বাদ কিছুটা মুচমুচে। একবার খেলে পরে আবার খেতে ইচ্ছে হয়।’

ইমাদ যে লন্ডনের রেস্টুরেন্টে সিরিয়ার বিখ্যাত ফালাফেল বিক্রি করতে পারবেন কখনো ভাবেননি। কারণ লন্ডনে এসে টিকে থাকাই তার জন্য অসম্ভব ছিল। ইমাদের জন্মস্থান সিরিয়ায়। বেড়ে উঠেছেন দামাস্কাসে। সেখানে রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের মালিক ছিলেন ইমাদ। ২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। মধ্যপ্রাচ্যের রেস্টুরেন্টের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও, কোথাও সিরিয়ান খাবার সেভাবে পরিচিতি পায়নি। অথচ সিরিয়ান খাবারের আলাদা এক ধরনের নিজস্বতা আছে, যা সেগুলোকে অন্য খাবার থেকে আলাদা করে। ইমাদ লন্ডনে এসেছিলেন কোনোভাবে জীবন বাঁচিয়ে টিকে থাকার জন্য। কিন্তু রান্নার প্রতি ভালোবাসা তাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে, লন্ডনের প্রথম এবং সবচেয়ে দামি সিরিয়ান রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

ইমাদের রেস্টুরেন্ট ‘ইমাদ’স সিরিয়ান কিচেন’-এ যে খুব বেশি মেন্যু আছে এমন নয়। সর্বোচ্চ ১৩-১৫টি রেসিপি দিয়েই চলছে রেস্টুরেন্ট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফালাফেল, বাবা ঘানোজ (রোস্টেড বেগুনের ওপর ডালিম ও মোলাস নামে এক ধরনের সিরাপ দেওয়া, সঙ্গে থাকে তাহিনি)।

ইমাদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের সঙ্গে সিরিয়ান স্বাদ মিলিয়ে আরও ভালো স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা করি আমি। দেখা যায়, আমি যেসব খাবার বানাই, ঘুরেফিরে সেগুলো সিরিয়ারই স্বাদ দেয়, তবে খেতে অন্যরকম ভালো লাগে। অর্ধেক খাবার তো সরাসরি সিরিয়ারই, বাকি সিরিয়ার খাবারেই আমি শুধু নিজের একটু চেষ্টা মেলাই।’

লন্ডনে

ইমাদ যখন প্রথম লন্ডনে আসেন ভাবেননি এখানে নিজের রেস্টুরেন্ট খুলতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমার যতটুকু সামর্থ্য ছিল ততটুকু দিয়েই চাচ্ছিলাম নিজের কিছু করতে। কিন্তু আমার বাজেট অনুযায়ী লন্ডনের কেন্দ্রে কোনো রেস্টুরেন্ট পাচ্ছিলাম না। ২০১৭ সাল থেকেই অপেক্ষা করছিলাম নিজের রেস্টুরেন্ট খোলার জন্য। জানতাম একজন শরণার্থী হয়ে অন্য দেশে এসে এমন স্বপ্ন দেখা অনেক কঠিন। কিন্তু হাল ছাড়তে চাইনি। একে তো নিজের দেশ ছেড়ে এসেছি, অন্যদিকে সিরিয়ার প্রাচীন খাবারের স্বাদ পরিচিত করার ইচ্ছা আরও জোরদার হচ্ছিল। শুধু অপেক্ষা করছিলাম। গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে আমার জন্য সুযোগ তৈরি হলো। করোনায় অনেক ব্যবসা থেমে যায়। অনেকেই অল্প দামে রেস্টুরেন্ট বিক্রি করে দেন। নিজের রেস্টুরেন্ট খোলার জন্য এটা আমার সবচেয়ে বড় সুযোগ ছিল। শুধু তা-ই নয়, সুযোগটাও পেয়ে গেলাম একদম লন্ডনের সুপরিচিত জায়গায়। সময়টা সবার জন্যই কঠিন ছিল। অস্বীকার করব না, একজন রেস্টুরেন্টের মালিক হিসেবে আমার মধ্যেও ভয় কাজ করছিল। তবে আমি জানতাম, এটাই আমার সুযোগ আর এটা আমাকে গ্রহণ করতেই হবে।’

কিংলি কোর্টের একদম ওপরের তলায় দার্জিলিং এক্সপ্রেস নামে একটি রেস্টুরেন্ট ছিল, যার মালিক ছিলেন আসমা খান। মহামারী আঘাত হানার পর তারা কোভেন্ট গার্ডেনে শিফট করে চলে যান। তার কাছ থেকে জায়গাটি নিয়ে নেন ইমাদ অর্ণব। ২০১৭ সালে যখন দার্জিলিং এক্সপ্রেস চালু হয়, তখন ইমাদ ছিলেন একজন শরণার্থী। এখন লন্ডনের নামিদামি এই জায়গায় ইমাদ নিজের নাম যুক্ত করেছেন নিজ যোগ্যতায়।

রেস্টুরেন্ট

চালু হওয়ার পর গত বছর শুধু নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রেস্টুরেন্ট খোলার অনুমতি পেয়েছিলেন ইমাদ। লকডাউন বিধিনিষেধের কারণে শুধু দুপুরের খাবার তৈরির অনুমতি ছিল। ভেবেছিলেন লকডাউনে নিজেকে পরিচিত করতে পারবেন কি না। তবে ইমাদের ভাগ্য সহায় ছিল। বিধিনিষেধের কড়াকড়ি উঠে যাওয়ায় অবশেষে তিনি রেস্টুরেন্টের দরজা খুলে দিতে পেরেছেন সবার জন্য। এখন তার রেস্টুরেন্টে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সব সময় গ্রাহকের আনাগোনা থাকে। প্রতিটি টেবিল ভরা থাকে। রান্নাঘরে খাবার তৈরি নিয়ে শেফদের ব্যস্ততা, রেস্টুরেন্টে এক দল বের হয়ে যাওয়ার পর নতুন কেউ আসার আগে টেবিল পরিষ্কার করা, গ্রাহকদের খাবার খাওয়া সবকিছু মিলিয়ে ইমাদের সিরিয়ান রেস্টুরেন্ট দিন থেকে রাত পর্যন্ত মুখর থাকে।

ঘরোয়া আবহ

ইমাদ সব সময় চেয়েছেন তার রেস্টুরেন্টে এলে যেন গ্রাহকদের ঘরের অনুভূতি হয়। তাই পুরো জায়গাটিকে তিনি সাজিয়েছেন খুব সাধারণভাবে। রেস্টুরেন্টে কেউ প্রবেশ করলে ইমাদের সঙ্গে হাসিমুখে তাদের অভ্যর্থনা জানান তার স্ত্রী ও ছেলেও।

রেস্টুরেন্টে কৃত্রিম আলোর কাজ খুব কম। উজ্জ্বল আলো ও প্রচুর আলো বাতাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে। উঁচু সিলিং, কাঠের বিম, সাদা দেয়াল, হালকা নীল রঙের কাঠের জানালা, তার্কিশ টাইলস সব মিলিয়ে ভেতরের আবহ মন ভালো করে দেওয়ার মতো। ইমাদ নিজেও স্বীকার করেন এমন রেস্টুরেন্ট দামাস্কাসেও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

রান্নাঘরে ব্যস্ত থাকলেও ইমাদ যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেন গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি টেবিলে এসে দেখা করার। রান্না কেমন হয়েছে জানতে চান নিজেই। ইমাদ বলেন, ‘আমি রান্নাঘরে থাকতে ভালোবাসি। আবার গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে অনুভূতি জানতেও ভালো লাগে আমার। লোকে অবশ্য আমাকে জিজ্ঞেস করে দুটো কাজের মধ্যে কোনটা আমার বেশি পছন্দ। আমি নিঃসন্দেহে স্বীকার করি, দুটোই আমার ভালো লাগে।’

বিপজ্জনক যাত্রার স্মৃতি

ইমাদ’স সিরিয়ান কিচেনের দেয়াল জুড়ে অনেক ছবি লাগানো আছে। ছবিগুলো ইমাদের বিভিন্ন মুহূর্ত, জায়গা ও অনুষ্ঠানের, যেখান থেকে তিনি আজ এ পর্যন্ত এসেছেন। স্মৃতি ধরে রাখতে ভালোবাসেন ইমাদ। দামাস্কাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে যে বাড়িতে তিনি থাকতেন সে বাড়ির দরজার লক খুলে এনেছেন শুধু তার রেস্টুরেন্টের দরজায় লাগাবেন বলে। বাবা-মার স্পর্শ এভাবেই সঙ্গে রেখে চলছেন তিনি। লন্ডনের নামকরা অনেক শেফের ছবি, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন পালনের ছবি, এমনকি যুক্তরাজ্যের কালাইস শরণার্থী ক্যাম্পে সময় কাটানোর মুহূর্তের ছবিও রেস্টুরেন্টের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে।

ইমাদ বলেন, ‘এগুলো সবই আমার জীবনযাত্রার অংশ। আমি আমার গল্প অতিথিদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। জীবনে চলার পথে অসাধারণ অনেক মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। তাদের অনেকের ছবিও আমি দেয়ালে লাগাতে চাই। শুধু বুঝতে পারি না কারটা রেখে কার ছবি লাগাব।’

দামাস্কাসের রেস্টুরেন্ট

১৯৯৯ সালে দামাস্কাসে প্রথম রেস্টুরেন্ট চালু করেন ইমাদ। অন্যদের মতো স্বাভাবিক পথেই হেঁটেছিলেন তিনি। পড়ালেখা করেছেন টেক্সটাইল ও ফ্যাশন নিয়ে। কিন্তু রান্না তাকে নিয়ে এসেছে অন্য ভুবনে। এ যাত্রাও তিনি ভালোবেসেছেন অন্তর দিয়েই। ইমাদ বলেন, ‘আমার সব সময় স্বপ্ন ছিল নিজের কোনো জায়গা চালু করার। রান্না ভালোবাসতাম আগে থেকেই। কেন যেন এ কাজেই আমার আরাম লাগে, নিরাপদ মনে হয়।’

১৯৯৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দামাস্কাসে ইমাদের রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ব্যাপক প্রসার লাভ করে। দুটো রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি কয়েকটি জুস বার ও চারটি কফি শপ চালু করেন। ভালোভাবেই চলছিল সবকিছু। এরপরই শুরু হয় যুদ্ধ।

ইমাদ বলেন, ‘২০১২ সালের মার্চ মাসে ছয় দিনের মধ্যে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে যায়। একের পর এক বোমা হামলায় আমার সব ব্যবসা, দুটো বাড়ি, দুটো গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ভয়াবহ মুহূর্ত ছিল তখন। তবে আমি হাল ছাড়িনি। ভেঙে পড়িনি। আমার পরিবার নিরাপদ ছিল। আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় একসঙ্গে যেতে পেরেছি। সত্যি বলতে আর সহ্য করতে পারছিলাম না। নিজ দেশেই পরজীবী হয়ে বাঁচতে হচ্ছিল। অবশেষে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

দামাস্কাস থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখার জন্য বৈরুত এলেন। তাদের সেখানে রেখে ইউরোপে এলেন একা। একটি লরিতে করে লেবানন থেকে তুরস্কতে এলেন। এরপর গিয়েছেন গ্রিস, মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সে। অক্টোবর নাগাদ পৌঁছান যুক্তরাজ্যে।

কিছু স্মৃতি আবছা হয়ে গেলেও অনেক ঘটনা স্পষ্ট মনে আছে ইমাদের। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে এসবের জন্য আমি একদম প্রস্তুত ছিলাম না। আমি খুব কঠিন কোনো মানুষ নই, অ্যাডভেঞ্চার করতেও পছন্দ করি না। অথচ জীবনে এমন ঘটনা ঘটে গিয়েছে যেগুলো সত্যি খুবই ভয়াবহ। আমি শুধু জানতাম আমার কোনো উপায় নেই। আমাকে চলতে হবে, থেমে গেলে চলবে না।’

লন্ডনে স্থায়ী হতে চেয়েছিলেন ইমাদ। ‘আমি শুধু এমন কোনো জায়গায় যেতে চাইতাম যেখানে গেলে আমি কাজের বিনিময়ে কিছু আয় করতে পারব। আমার মা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে লেখাপড়া করেছিলেন। তার কাছ থেকেই ইংরেজিতে কথা বলা শিখেছিলাম। সঙ্গে মা আমাকে রান্নাও শিখিয়েছেন। দুইয়ে মিলে আজ আমি এখানে।’ বলছিলেন ইমাদ। 

লন্ডনে আসার পর ইমাদের কাছে তেমন কোনো অর্থ ছিল না। অনেক খুঁজে গাড়ি ধোয়ার একটি কাজ পেয়েছিলেন। পরে সেখানেই গাড়ি বিক্রেতা হিসেবে পদোন্নতি হয়। ইমাদ বলেন, ‘আমি আসলে গাড়ি একদম পছন্দ করি না। কিন্তু চাকরিটি আমি খুব মন দিয়ে করেছিলাম। সত্যি বলতে এ কাজের প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আমাকে নতুন জায়গায় টিকে থাকতে সাহায্য করেছে গাড়ির কাজ। তবে আমার মন সব সময় রেস্টুরেন্টে পড়ে থাকত।’

২০১৭ সালে অবশেষে সে সুযোগ আসে। বেথনেল গার্ডেনের কলাম্বিয়া রোডে একটি দাতব্য সংস্থার সঙ্গে মিলে রেস্টুরেন্টের কাজ শুরু করেন। রান্নাঘরের কাজ তার জন্য কখনোই চ্যালেঞ্জের ছিল না। তিনি বরং আনন্দ পেতেন। ইমাদ জানান, ‘আমি ভেবেছিলাম কাজটি খুব সহজ হবে। আমার পরিকল্পনা ছিল অতিথিদের দারুণ সিরিয়ান খাবার খাওয়াব যেগুলো তারা কখনো খায়নি। কিন্তু সে জায়গাটি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সঠিক ছিল না।’

জীবনের জয়

নিজের রেস্টুরেন্টের দরজা যখন থেকে খুলেছে, তখন থেকেই ইমাদ নতুন ভাবনা ভাবতে শুরু করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ফালাফেল নামের যে খাবারটি তিনি মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন, আলাদাভাবে শুধু সে খাবার দিয়েই একটি ছোট দোকান দেওয়া যায়। সে পরিকল্পনা মতোই কাজ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বিয়ে ও বিভিন্ন উৎসবের জন্য কেটারিং সার্ভিস চালু করতে চান। ‘এ মুহূর্তে আমার একমাত্র লক্ষ্য রেস্টুরেন্টকে আরও বড় করা। আগে আমি শুধু এক এলাকায় কাজ করতাম। কিন্তু এখন আমার লক্ষ্য বদলেছে। আমি আমার ব্যবসাকে অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারিত করতে চাই।’

জীবনে নিজের কাজের ফলের ওপর আস্থা রাখেন ইমাদ। তিনি বলেন, ‘আমি কর্মফলে বিশ্বাস করি। আমি যখন প্রথম লন্ডনে আসি, খাওয়ার জন্য অর্থও জোগাড় করা কঠিন ছিল আমার জন্য। আমার সব অর্থ খরচ হয়ে যেত ডনকাস্টারে বোনের বাড়িতে যাওয়ার সময় ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে। পাঁচ বছর পর আমি আজ স্বপ্নকে বাস্তবায়নের দুয়ারে দাঁড়িয়ে। আমি যে দাতব্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করে মানুষকে খাওয়াতে পেরেছি এটা হয়তো তারই ফল। জীবনে একবার হেরে গিয়ে অনেকেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। আমি ভাগ্যবান। আমি দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ পেয়েছি। এই সুযোগ দিয়ে আমার পক্ষে যত মানুষকে সম্ভব আমি সাহায্য করে যাব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত