সেপ্টেম্বরে রেকর্ড ৩৮% রপ্তানি আয় বেড়েছে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২১, ১১:২৭ পিএম

তৈরি পোশাকে ভর করে সদ্য বিদায়ী মাস সেপ্টেম্বরে দেশে রেকর্ড রপ্তানি আয় এসেছে। এ সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪১৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৮ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি একক মাস হিসেবে গত আগস্টে ইতিবাচক ধারায় ফেরার পর সেপ্টেম্বরে আরও ভালো করেছে। একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় হয়েছে সেপ্টেম্বরে। গতকাল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এ তথ্য জানিয়েছে।

রপ্তানি আয়ের উল্লম্ফনে বরাবরের মতো প্রধান ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। এছাড়া হোম টেক্সটাইল, কৃষিজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতেও বড় সাফল্য এসেছে, যা রপ্তানি আয়ের উল্লম্ফনে সহায়তা করেছে। 

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয়ের এমন উল্লম্ফনে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের সার্বিক রপ্তানি নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে উঠেছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। এসময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে মোট এক হাজার ১০২ কোটি ১৯ লাখ ডলার আয় এসেছে, যা ২০২০-২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৯৮৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।

গতকাল ইপিবি প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে ৪১৬ কোটি ৫৪ লাখ ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর সেপ্টেম্বরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর ২০২০-২১ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে আয় এসেছিল ৩০১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। একক মাসের হিসাবে বিশাল এ প্রবৃদ্ধি দেশের সার্বিক রপ্তানিকে নিয়ে এসেছে প্রবৃদ্ধির ধারায়।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ পিছিয়ে ছিল। আগস্টে একক মাস হিসেবে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হলেও সার্বিক রপ্তানি নেতিবাচক ধারা থেকে বের হতে পারেনি। সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয়ের উল্লম্ফনের কারণে আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ এগিয়ে গেল।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মোট রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশের বেশি এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ। তৈরি পোশাক খাতে বরাবরের মতো নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে বেশি। এ খাতে ১৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ৫১৬ কোটি ডলার। শুধু সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ১৯০ কোটি ডলার। দীর্ঘদিন পর ওভেন খাতে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সর্বশেষ তিন মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে এ খাত  থেকে আয় এসেছে ১৫১ কোটি ডলার।

আরেক পোশাকসংশ্লিষ্ট খাত হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় হয়েছে ২৭ কোটি ডলার। একই সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে ২৭ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ।

এদিকে রপ্তানি আয়ের উল্লম্ফনেও পিছিয়ে পড়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য। গত তিন মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় কমেছে ৩১ শতাংশ। এ সময় এ খাত থেকে ২১ কোটি ২৩ লাখ ডলার রপ্তানি আয় এসেছে। অবশ্য বৃহত্তর খাত হিসেবে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চা, সবজি, তামাক, ফলমূল, মসলা, শুকনো খাবারসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। অন্যান্য খাতের মধ্যে হিমায়িত ও জীবন্ত মৎস্যে ১৫ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ৪৫ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত