দেশের ব্যস্ততম ফেরি ঘাটের একটি রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাট। এই ঘাটে শুক্রবারসহ টানা চার দিন ঢাকামুখী যানবাহনসহ অন্যান্য জেলার যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
এই যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও ট্রাক চালকেরা।
শুক্রবার সকাল থেকেই ঘাটে দেখা যায়, যাত্রীবাহী যানবাহন নদী পারাপারে জন্য অপেক্ষা করছে। পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক বাদে অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
অগ্রধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাসগুলো পারাপার হওয়ার কারণে ঘাট এলাকায় বাসের সিরিয়াল তেমন নেই। তবে অব্যবস্থাপনার কারণে ঘাটমুখি লেনে ঢুকতে না পেরে বাংলাদেশ ফিডমিল পর্যন্ত বাসের লম্বা লাইন সৃষ্টি হয়। আর ঘাট এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশ হ্যাচারি পর্যন্ত পণ্যবাহী যানের সারি ছিল।
প্রতিবেদন লেখার সময় বেলা ১২টা নাগাদ ঢাকা-খুলানা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারি পর্যন্ত যানবাহনের অবস্থান ছিল।
এর আগে গত তিন দিন দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার জিরো পয়েন্ট হতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল। বিকেলে চাপ কমে গেলেও সন্ধ্যার পর সেই চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।
বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা মেঘনা ঘাটগামী ট্রাক চালক ইসমত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেড় দিন যাবৎ ঘাট পারাপারের জন্য করছি। গতকাল গোয়ালন্দে মোড়ে ঘাটের সিরিয়ালের জন্য আটকে থাকার পর আজ সকাল ১১টায় এখানে (দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল) এসেছি। এখান থেকেও ঘাট আরও দেড় কিলোমিটার হবে।
তিনি বলেন, আরও কতক্ষণ লাগে কে জানে! আশপাশে ভালো খাবারের হোটেল ও টয়লেট না থাকায় বেশি সমস্যা হয়ে হচ্ছে।
খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকচালক সানি শেখ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ সব বলে আর কী হবে! ঘাটের পরিস্থিতি কখনো ঠিক হবে না। পরশু থেকে ঘাট পারাপারের চেষ্টা করছি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কার্যালয় (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ ফেরি চলাচল করছে ১৯টি আর আমাদের ঘাট চালু আছে ৪টি। আমরা চেষ্টা করছি এই দীর্ঘ সারি ঘাট এলাকায় যেন না থাকে।
এই কর্মকর্তা বলেন, পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসগুলোকে অগ্রধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাকের সারি সৃষ্টি হচ্ছে যা স্বাভাবিক।
