দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি বাড়ায় কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। একদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ পাইকারিতে (ট্রাক সেল) ৯০টাকা বিক্রি হলেও তা কমে শুক্রবার ৭০টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে ১৪টি ট্রাকে ১৪৭টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে, এতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে। দাম কমায় খুশি বন্দরে কাঁচামরিচ কিনতে আসা পাইকাররা। তবে আমদানি করা কাঁচামরিচের মান খারাপ হওয়ায় ও দাম কমায় লোকসানে পড়েছেন আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দরে পাবনা থেকে কাঁচামরিচ কিনতে আসা সামসুল ইসলাম বলেন, আগে বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ কম ঢুকছিল যার কারণে দাম বেশি ছিল, এখন বন্দর দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে। শুধু হিলি দিয়ে বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বুড়িমারী দিয়েও পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ট্রাক করে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমছে। বন্দর থেকে কম দামে কিনতে পারছি, সেই হিসেবে মোকামে বিক্রি করতে পারছি। কয়েক দিন আগে বন্দর থেকে কাঁচামরিচ কিনেছিলাম ১শ ২০ থেকে ১শ ৩০টাকা, সেই কাঁচামরিচ দুদিন আগে হলো ৯০টাকা, আজ তা আরও কমে ৭০ টাকা দরে কিনছি।
হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক গোলাম মোস্তফা ও আনোয়ার হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও গরমের কারণে আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাঁচামরিচের আবাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাঁচামরিচের উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বাজারে সরবরাহ কমায় দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম বাড়তে বাড়তে ১শ ৮০ থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। এমন অবস্থায় দেশে কাঁচামরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নাগালের মধ্যে রাখতে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি করা হচ্ছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন কাঁচামরিচ উঠতে শুরু করেছে, যার কারণে বাজারে দেশীয় কাঁচামরিচের সরবরাহ বেড়েছে যার প্রভাব পড়ছে আমদানি করা কাঁচামরিচের দামের ওপর। বর্তমানে বন্দরে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ পাইকারীতে (ট্রাক সেল) বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। কিছু ভালোমানের কাঁচামরিচ ৮০টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। আবার কিছু কাঁচামরিচ মান খারাপ হওয়ার কারণে ৫০/৬০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে আমদানিকারকদের কাঁচামরিচ আমদানি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এছাড়া এক কেজি কাঁচামরিচের শুল্ক বাবদ পরিশোধ করতে হচ্ছে ২৫টাকা ৫০পয়সা, যার কারণে কাঁচামরিচ আমদানি করে কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। যদি আমদানি শুল্ক কমানো হতো তাহলে কাঁচামরিচের দাম আরও কমে আসত।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, দেশের বাজারে কাঁচামরিচের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেখানে বন্দর দিয়ে ৩/৫ ট্রাক করে কাঁচামরিচ আমদানি হতো এখন তা বেড়ে বন্দর দিয়ে ১০ থেকে ১২ট্রাক করে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে। বন্দর দিয়ে গত ৩অক্টোবর থেকে ৭অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫টি ট্রাকে ৩৯৩টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। আর কাঁচামরিচ যেহেতু কাঁচামাল ও দ্রুত পচনশীল পণ্য তাই কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত বন্দর থেকে কাঁচামরিচ ছেড়ে দেওয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
