বগুড়ায় বিতর্কিতরাও পেলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২১, ১১:১১ পিএম

বগুড়ার দুটি উপজেলার ২০ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম দফার নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বেশকিছু বিতর্কিত প্রার্থী। কারও বিরুদ্ধে হত্যা, কারও বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ, কারও বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটা ছাড়াও মাদক, হাইব্রিড, বিরোধী দলের সঙ্গে সখ্য ও ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ১১ নভেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে এবং শেরপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ৭ অক্টোবর নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এসব ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করে।

এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় যারা মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের মধ্যে বিহার ইউনিয়নের প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যুবলীগ কর্মী ওমর ফারুক, আওয়ামী লীগ কর্মী শিমুল হত্যাসহ তিনটি হত্যা মামলা এবং একটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

ময়দানহাটা ইউনিয়নের এসএম রূপম এখনো ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি উচ্চ আদালতে আপীল করলে সেই আদেশ স্থগিত হয়। রায়নগর ইউনিয়নে শাহজাহান কাজী স্থানীয় বাগমারা মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন। সেই মাদ্রাসার গাছ চুরি করে কাটার অপরাধে তিনি জেল খাটেন। বুড়িগঞ্জের রেজাউল করিম চঞ্চলকে র‌্যাব বিশেষ ক্ষমতা আইনে (ফেনসিডিল পাচার) গ্রেপ্তার করে। মাঝিহট্ট ইউনিয়নের আবদুল গফুর মন্ডল দীর্ঘদিন বিদেশ ছিলেন, দেশে ফিরেই তিনি হয়ে যান আওয়ামী লীগ নেতা। এরপর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তাকে সভাপতি ঘোষণা করা হলে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হয়। সেই মামলা এখনো চলমান।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা নয়। তবে দলের তৃণমূল থেকে তিনজন করে প্রার্থীর যে তালিকা পাঠানো হয়, সেটিই কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকা থেকেই এসব প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের শেখ মোহাম্মদ জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে একই ইউনিয়নের সবুজ নামে এক যুবকের ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা রয়েছে। শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের আবু তালেব আকন্দ জাতীয় পার্টি ও বিএনপি হয়ে এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। খামারকান্দির আবদুল মোমিন একসময় ছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মির্জাপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী মন্টু বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর আসনের সাংসদ জি এম সিরাজের মালিকানাধীন এস আর গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে এখনো কাজ করেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, মাঠ পর্যায়ের নেতারাই তাদের নাম প্রস্তাব করেছেন। হয়তো কারও বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ থাকতে পারে, তবে অন্যান্য উপজেলার মতো সেসব অভিযোগ গুরুতর নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত