রেমিট্যান্সের আশায় ডলারের দর বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৩ পিএম

ডলারের দর একটু একটু করে বাড়ছে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর ডলারের দর অব্যাহতভাবে বাড়ছে। একই সময়ে আমদানি বৃদ্ধিতে বাজারে পর্যাপ্ত ডলারের জোগান দিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এখনো রেমিট্যান্স কমছে। দ্রুত এই রেমিট্যান্স বাড়বে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গত বৃহস্পতিবার টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ১০ পয়সায়। অবশ্য গত আগস্ট থেকে ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে। গত ২ আগস্ট থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডলারের দর বেড়েছে ৮০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত ২৯ জুলাই ডলারের আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। গত ২ আগস্ট থেকে ডলারের দর বাড়তে শুরু করে। গত ৭ অক্টোবর ডলারের দর বেড়ে ৮৫ দশমিক ৬০ টাকায় উন্নীত হয়।

গত ৬ অক্টোবর আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮৫ দশমিক ৫০ টাকা। ৭ অক্টোবর আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ১০ পয়সা বেড়ে হয় ৮৫ দশমিক ৬০ টাকা। ওই দিন বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে ডলারের দর ছিল ৮৫ দশমিক ৬৫ টাকা বা এর বেশি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রয়োজনে এক ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৫ দশমিক ৬৫ টাকায়। ইস্টার্ন ব্যাংকেও ডলারের দর ছিল আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে ৮৫ দশমিক ৬৫ টাকা।

এদিকে রেমিট্যান্স বাড়াতে ও রপ্তানি বাণিজ্যে বাড়তি সহায়তা দিতে বিদেশি মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকতেও ডলারের দর বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত ডলার বিক্রি করতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এ কারণে বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের এখন পর্যন্ত ১১২ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এরপরও রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে।’

যেখানে এর আগের অর্থবছর কোনো ডলার বিক্রি করতে হয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। উল্টো বাজারে ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে রেকর্ড পরিমাণ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে সব কিছুর পরও রেমিট্যান্স কমতে থাকায় এ নিয়ে মুখ খুলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। রেমিট্যান্স দ্রুত ইতিবাচক ধারায় ফিরবে বলে আশা করছেন তিনি।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৫৪০ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তিন মাসে এক বিলিয়ন ডলারের মতো রেমিট্যান্স কম এসেছে। আশা করি, ধীরে ধীরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে। গত বছর প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এখন যে গতিতে আসছে, সেভাবে এলে ২২-২৩ বিলিয়ন ডলার আসবে, ২২ বিলিয়ন ডলারের কম হবে না।

রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মূল কারণ হচ্ছে বিদেশে যে প্রবাসীরা ছিলেন, তারা দেশে এসে আর সেখানে ফেরত যেতে পারেননি। আগে যত সংখ্যক প্রবাসী বিদেশে ছিলেন, এখন সে সংখ্যক নেই। যাওয়া শুরু হয়েছে। আমার মনে হয় দুই-তিন মাসে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত জুলাই ও আগস্ট দুই মাসে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যয় করেছে ১ হাজার ৮৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আমদানি ব্যয় ছিল ৭৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি থেকে দেশ আয় করেছে ৬৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৬৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমেছে।

তবে অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে রপ্তানি অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত আগস্টের ঋণাত্মক ধারা কাটিয়ে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বা ডলারের মূল্য পড়ে যাওয়া ঠেকাতে ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার ব্যাংকগুলোর প্রয়োজন হলে তাদের কাছে ডলার বিক্রিও করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫১৫ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটিই ছিল এর আগের সর্বোচ্চ ডলার কেনার রেকর্ড। আর গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সব মিলিয়ে ৭৯৩ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত