তুরাগ নদে নৌকাডুবি, চার শিশুসহ ৫ মৃত্যু

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২১, ০১:০৮ এএম

ঢাকার গাবতলীর আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদে বালুবাহী দুটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে চার শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দিনভর উদ্ধারের পর এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। এদিকে ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

নৌকাডুবিতে মৃতরা হলোÑ আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকার চমক জানের মেয়ে সোয়ালা (২৭), তার তিন নাতি-নাতনি জেসমিন (২), আরমান (৫) ও ইমরান (৪) এবং অজ্ঞাত একজন (৯)। এ ঘটনায় চমক জানের আরেক মেয়ে রুপায়না (২৪) ও এক শিশু নিখোঁজ রয়েছে। চমক জানের মেয়েরা নদীর পাশে কয়লা লোড-আনলোডের শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বেঁচে ফেরা যাত্রী ও স্থানীয়রা জানায়, ভোরে নারী-শিশুসহ ১৮ যাত্রী নিয়ে নৌকাটি আমিনবাজারের তুরাগ নদের কেবলার চর থেকে গাবতলীর দ্বীপনগর পাড়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। নদীর মাঝপথে পৌঁছলে উভয় দিক থেকে দুটি বালুবাহী বাল্কহেড নৌকার ওপর উঠে যায়। এতে নৌকাটি ডুবে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় ১১ জন তীরে আসতে সক্ষম হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান করতে থাকেন। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক নারী ও চার শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আলোস্বল্পতার কারণে উদ্ধার অভিযান আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

মৃত ও নিখোঁজরা মূলত সিলেট এবং সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা কয়লার কাজ করত।

বেঁচে ফেরা কাবিল হোসেন (২৬) জানান, ভোরে বড়দেশী গ্রাম হয়ে কেবলারচর থেকে গাবতলীর দ্বীপনগরে কাজের জন্য প্রতিদিনের মতো ইঞ্জিনের নৌকায় রওনা দেন। নদের মাঝখানে এলে একটি বালুবাহী বাল্কহেড দ্রুত নৌকার সামনে চলে আসে। এতে নৌকাটি একটু পেছনে চলে আসে। তবে একই সময় পেছন থেকে আসা আরেকটি বাল্কহেড নৌকার কাছাকাছি চলে আসে। বাল্কহেডের একটি নৌকার ওপরে উঠে গেলে সেটি ডুবে যায়। ছেলে সায়েমকে নিয়ে কোনোরকমে সাঁতরে তীরে আসেন বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. প্রিন্স হাওলাদার জানান, নৌকাটিতে শিশুসহ ১৮ যাত্রী ছিল। ডুবে যাওয়ার পর ১১ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। সাভার থানা ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় দিনভর অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক দিনমনি শর্মা জানান, মৃতদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। বাকিদের উদ্ধারে আগামীকাল (আজ) উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।

ঢাকা বিভাগের নৌ-পুলিশের সিনিয়র পুলিশ সুপার খন্দকার ফরিদুল ইসলাম ফরিদ জানান, নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে ঘটনা তদন্তে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক ফজলুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরে ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডুবে যাওয়া নৌকাটি বিআইডব্লিউটিএ ১১০ ফুট গভীর থেকে ধরলা-৪ ক্রেন বোট দিয়ে বেলা ৩টার দিকে তোলে। নৌকায় কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত