কুমিল্লার ঘটনার জেরে ঢাকায় বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, ৫ পুলিশ আহত

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৫৬ পিএম

কুমিল্লার ঘটনার জেরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মিছিলকারী ও পুলিশের বেশ কিছু সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  

শুক্রবার সকাল থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। এর মধ্যেই জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে মুসল্লিরা। মিছিলটি রাজধানীর পল্টন-বিজয়নগর হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। আর তখনই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১০ মিনিট দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় পল্টন, কাকরাইল, বিজয় নগর, ফকিরাপুল এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ডগ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তখন বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে।

সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত দুই বিক্ষোভকারী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈমাম জুমার নামাজের সালাম শেষ করার সঙ্গে-সঙ্গেই বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে তারা মসজিদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করলেও আস্তে-আস্তে রাস্তায় নেমে পড়েন। একপর্যায়ে তারা মিছিলটি নিয়ে মালিবাগের দিকে এগোতে থাকে। তখন পুলিশ তাদের নাইটিঙ্গেল মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। মুসল্লিদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল হলেও এতে হেফাজতে ইসলামসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অংশ নিতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভ থেকে কথিত কোরআন অবমাননাকারীদের শাস্তির দাবির পাশাপাশি হেফাজতের সাবেক নেতা মাওলানা মামুনুল হকসহ সংগঠনটির নেতাদের মুক্তির দাবিতে স্লোগানও দেওয়া হয়। এছাড়া সরকার ‘নাস্তিকদের’ হেফাজত করছে এমন অভিযোগ তুলে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের কেউ-কেউ উপস্থিত মিডিয়া কর্মীদের ওপর হামলা ও তাদের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ‘মালিবাগ মুসলিম যুব সমাজ’–এর ব্যানারে কয়েক শ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার বায়জিদুর রহমান জানান, তিনিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সাধারণত বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে যেসব বিক্ষোভ হয়, সেগুলোর নেতৃত্ব কোনো না কোনো সংগঠন কিংবা রাজনৈতিক দল দিয়ে থাকে। কিন্তু আজকের এই বিক্ষোভে প্রকাশ্যে কেউ নেতৃত্বে ছিল না। তাই মিছিলটি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে আমাদের।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আ. আহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি অবনতি যাতে না ঘটে এবং অন্য কোনো গোষ্ঠী যেন বিক্ষোভ মিছিলকে ব্যবহার করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সে জন্য পুলিশ শুরু থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। নাইটিঙ্গেল মোড়ে আসার পর বিক্ষোভকারীদের কেউ-কেউ পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। তখন পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ধাওয়া দেয় এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। বেলা আড়াইটার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে ও যান চলাচল শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত