স্বল্প আয়ের মানুষদের গৃহঋণ দেওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহ করতে দেশে প্রথমবারের মতো গৃহায়ন বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। এই বন্ডের দুই-তৃতীয়াংশই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) কিনে নেবে বলে সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে ঘোষণা দিয়েছে।
এছাড়া বন্ড ইস্যুর অনুমোদনের জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে আবেদন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
ব্র্যাক ব্যাংক সূত্র জানায়, ঢাকার আশপাশের এলাকায় বাড়ি নির্মাণের জন্য স্বল্প আয়ের মানুষদের ঋণ দিতে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে ব্যাংকটি। এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ব্যাংকটি বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ৫ বছর মেয়াদি একটি তহবিল গঠন করবে। দেশে প্রাইভেট প্লেসমেন্টে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড বিক্রি করা হবে। তহবিলের আকার হবে ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আইএফসি ৫ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা অর্থাৎ বর্তমানে ৮৫ দশমিক ৬০ টাকা দরে প্রায় ৪২৮ কোটি টাকার বন্ড ধারণ করবে। এই বন্ডের বিপরীতে ব্যাংকটি প্রাথমিকভাবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইএফসি ব্র্যাক ব্যাংকের গৃহায়ন বন্ডে বিনিয়োগের তথ্যের একটি সংক্ষিপ্তসার গত ৭ অক্টোবর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। যা তাদের এক্সেস টু ইনফরমেশন পলিসির আওতায় প্রকাশ করা হয়।’
ব্র্যাক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মো. শাহীন ইকবাল বলেন, ‘বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে আমরা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষদের বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ দেব। বর্তমানে সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশের নিচে। আমরা চেষ্টা করছি গৃহায়নের জন্য আমরা এর থেকেও কিছুটা কম সুদে ঋণ দিতে পারব। এ জন্য আমরা বন্ড ইস্যুর খরচ কমাতে পাবলিক প্লেসমেন্টের পরিবর্তে প্রাইভেট প্লেসমেন্টে বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করেছি।’
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে অর্থায়নের জন্য খ্যাতি রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের। ২০০১ সালে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ৩০ জুনের তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। গতকাল ব্যাংকটির শেয়ারের বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকায়।
