চিহ্ন ৪১: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বোঝাপড়া ও বোদলেয়ার স্মরণ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৪ পিএম

ঢাকার কিছু বাণিজ্যিক কাগজকে হিসেবের বাইরে রাখলে, এমন কাগজ খুব কমই দেখি- যা নিয়মিত বের হচ্ছে। বরং, দু’দশ বছরে একটা সংখ্যা করে নাম জারি রাখার প্রবণতাই বেশি চোখে পড়ে। এটি মানতেই হয়, গত বাইশ বছর ধরে নিয়মিত বেরিয়ে চিহ্ন এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়েই হাতে এলো পত্রিকাটির ৪১ তম সংখ্যা। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ক্রোড়পত্র নিয়ে। হাতে নিয়ে চমকে যাই- সাহিত্যের লোকেদেরও ভাবনার এত চৌহদ্দি! পাঠে প্রবেশ করে আস্থা পাই- সত্যিই ভাবনার অধিকার তাঁদের আছে বটে! ক্রোড়পত্রের সব কটি লেখাতেই ভাবনা-চিন্তার উর্বর খোরাক দেখি। যা দিয়ে নিজের বোধটাকে ঝালিয়ে নেয়া চলে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধারণাগত পরিচয়, তত্ত্বীয় কাঠামো, প্রভাব প্রতিপত্তি; সবটা তলিয়ে দেখেছেন আটজন লেখক। সাহিত্য-সংস্কৃতি থেকে জনজীবন; আগামী পৃথিবীর কিছুই ফাঁক গলিয়ে পার পায়নি সে দেখা থেকে। তারানা নূপুর, শ্রীতন্বী চক্রবর্তী, আনু মুহাম্মদের লেখাগুলোর নাম নিতে পারি। চন্দ্রিল ভট্টাচার্যের ‘ডিস্টোপিয়া ও সম্ভাব্য পৃথিবী’তে পাই ভাবনারও অতিরিক্ত। এটি পত্রস্থ করা নিঃসন্দেহে এ সংখ্যার বড় অর্জন।

ক্রোড়পত্রের এই চড়া মেজাজটা নিয়মিত বিভাগে ঢুকেও দম পায় না। একটু হোঁচট খাই- এবারে কবিতা ও গল্প ছেঁটে ফেলা হয়েছে দেখে। তবে, সেটি মিটে যায় শার্ল বোদলেয়ারের দ্বি-শতবর্ষের শ্রদ্ধাতর্পণে। বুদ্ধদেব বসু ও সুরভি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মহীবুল আজিজের লেখাটিও এ পর্বে পাল্লা দেয়, বোদলেয়ার ফিরে দেখায়। সঙ্গে জ্যঁ পল সার্ত্রের ‘কালো অর্ফিয়ুস’ অনুবাদে সমীহ আদায় করে নেন বিকাশ গণ চৌধুরী। এবারে দুটি সাক্ষাৎকার পাই : একটি সাগুফতা শারমীন তানিয়ার, অপরটি আফসার আমেদের। তাঁদের জীবনাভিজ্ঞতা যেকোনো লেখক-পাঠকের প্রেরণার উৎস। বিশেষত, সাগুফতা শারমীন তানিয়ার পাঠ ও সাহিত্যিক-প্রস্তুতির যে চৌহদ্দি পাই- তা আমাদের তুল্য অর্বাচীনদের পথ দেখায়। পাঠের প্রতি আস্থা আনে। ধারাবাহিকে জাপানি সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ নো নাটক নিয়ে লিখেছেন প্রবালকুমার বসু। এই আঙ্গিকের সঙ্গে পরিচিত হয়ে, কায়দা-কানুন-ইতিহাস জেনে মুগ্ধ হই। এই সংখ্যাতেও সত্যজিৎ রায় নিয়ে দুটি লেখা পাই, আসে শতবর্ষ পূরণের ধারাবাহিকতায়। ‘পরশ-মানিক’ নামে নিজের দেখা সত্যজিতের আন্তরিক স্মৃতি ভাগ করে নেন চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। আর, সত্যজিতের সংগীতের জগৎটা ঘুরেফিরে দেখান গুণী তবলা-শিল্পী সুভদ্রকল্যাণ। পুরো পত্রিকা পাঠে যে আমেজ নিয়ে উঠি- তাতে কোনোভাবেই এই সংখ্যাটিকে সচেতন পাঠকদের উপেক্ষণীয় বলা চলে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত