১৪ শিক্ষার্থীর চুল কর্তন

ইউজিসির তদন্ত দলের কাছে বক্তব্য দিলেন ফারহানা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৬ এএম

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনার তদন্তকাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত কমিটি। গতকাল বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কমিটির দুই সদস্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্নজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী জানান, তদন্তকাজে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. জামিনুর রহমান ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক ইউসুফ হীরার সঙ্গে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তদন্ত কমিটির প্রধান ইউজিসির সদস্য ড. দিল আফরোজ বেগম। তদন্ত শুরু হয়েছে। এক দিনে শেষ হবে কি না তা আপাতত বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর জানান, ইউজিসির তদন্ত দল ভুক্তভোগী ১৪ শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন, প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চার শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী তিন শিক্ষক ও পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্য গ্রহণ করে। এছাড়া তারা বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা ছাড়াও নির্ধারিত ফরমে ৫৪টি প্রশ্নের উত্তর নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যাকাডেমিক ভবনের চতুর্থ তলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শ্রেণিকক্ষে প্রথমে মৌখিকভাবে চুল কেটে দেওয়ার বর্ণনা দেন ভুক্তভোগী ১৪ শিক্ষার্থী। এরপর সাক্ষ্য দেন আন্দোলন চলাকালে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন, শামীম হোসেন ও আবিদ। তাদের পর প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাক্ষ্য দেন। সবশেষ বিকেলে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন। যদিও আগে একাধিকবার সময় পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বানে সাড়া দেননি তিনি।
তদন্ত কমিটির সদস্য মো. জামিনুর রহমান বলেন, ‘তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না।’
গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘ইউজিসির তদন্ত কমিটি আমাকে ডেকেছে। আমি তাদের কাছে আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি। তারা আমার কথা গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ইউজিসির তদন্ত কমিটির ওপর আমার শতভাগ আস্থা রয়েছে। এজন্যই আমি তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছি।’
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন পরীক্ষার হলে ঢুকে প্রথম বর্ষের ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও শিক্ষিকা ফারহানার অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীরা লাগাতার আন্দোলন শুরু করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।
গত ২১ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এ কমিটি। পরদিন শিক্ষিকা ফারহানার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিন্ডিকেট সভা মুলতবি করা হলে শিক্ষার্থীরা ফের লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন। তবে গত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ আন্দোলন আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত