দেশে যেকোনো ঘটনা ঘটলেই বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আজকে দেশে যেকোনো ঘটনাই ঘটুক না কেন পুলিশ মামলা দেয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ। অথচ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার অপকৌশল হিসেবে মামলা দেওয়া হচ্ছে।’ কুমিল্লা, নোয়াখালী, রংপুরসহ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাদের জড়িত করার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে যেকোনো ঘটনাই ঘটুক না কেন বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রকৃত দোষী যাতে শাস্তি না পায় তার জন্য এক মামলায় হাজার জনকে আসামি করা হয়। মন্দির ভাঙাসহ প্রতিটি ঘটনায় সরকারি দল জড়িত। রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতায় ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীনরা জড়িত। যা নিয়ে তারা স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। কিন্তু এখন আসামি করা হচ্ছে বিএনপি নেতাদের।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের নানান ব্যর্থতা, অপকর্ম ঢাকতেই বিভিন্ন মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। বেআইনি ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নিজেরা সহিংসতা করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। কারাগারে অন্তরীণ থাকা নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কুমিল্লায় পাগল ইকবালকে সাজানো হয়েছে। সে নাকি কোরআন পুড়িয়েছে। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সরকারের মূল সমস্যা দৃষ্টি সরানো। এগুলোই তারা করছে। চৌমুহনীর ঘটনায় প্রায় আট হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এ মামলা কি কখনো শেষ হবে? সেখানে একজনকে দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে যে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু জড়িত। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জড়িত। এটা হাস্যকর, কেউ বিশ্বাস করবে না। সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে সারা দেশে সহিংসতা চলছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে কোনো ধর্মের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ নিজেরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিএনপির ওপর দায় চাপায়। তার কারণ একটাই, বিএনপিকে দমাতে হবে। না হলে অবৈধ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পূজামন্ডপে হামলা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোর পেছনে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ আছে। সরকারের এজেন্সিগুলো এর পরিকল্পনা করেছে। এর উদ্দেশ্য মূল সংকট থেকে দৃষ্টি অন্য দিকে সরানো এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনীতির মাঠ একদম খালি করে ফেলা। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে এমন গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপিপ্রার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি এবার নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।
