ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

ভারতের অগ্নি-৫ চীনে আঘাত হানতে সক্ষম

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩২ এএম

চীনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সফলভাবে অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের কথা জানিয়েছে ভারত। গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে উড়িষ্যা রাজ্যের উপকূল-সংলগ্ন এ পি জে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয় বলে খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে টাইম অব ইন্ডিয়া বলছে, অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে চীনের একেবারে উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলোও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের সীমানার মধ্যে এলো। এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ চীনের প্রতি একটি হুঁশিয়ারি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভূমি থেকে ছোড়া অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র পাঁচ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। এটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) শ্রেণির। দিল্লির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূমিতে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে একেবারে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে আক্রান্ত না হলে আগে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে দেশটি।

তিনটি পর্যায়ের কঠিন জ্বালানি ইঞ্জিন ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রটি উচ্চমাত্রায় নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এমনকি চীনের মূল ভূখণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতেও সক্ষম। এমনকি এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশেও পৌঁছাতে সক্ষম বলে দাবি ভারতের। এটি ১০৫ টন পে-লোড বহন করতে পারে এবং এর ওজন প্রায় ৫০ টন।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়ার পর ভারত অষ্টম দেশ, যার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে। পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ ভারতের কাছে অগ্নি-১ থেকে ৫ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। দেশটির ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) তৈরি করা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ৭০০ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজারের বেশি কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।

গত জুনে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘অগ্নি প্রাইম’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে ভারত। এটি অগ্নিশ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর আরও অত্যাধুনিক সংস্করণ। ওই ক্ষেপণাস্ত্রও উড়িষ্যা রাজ্যের উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।

লাদাখ ও অরুণাচলসহ কয়েকটি জায়গায় সীমান্ত নিয়ে চীন-ভারতের বিরোধ রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়েছে দেশ দুটি। গত শনিবার চীনের সংসদে নতুন একটি স্থলসীমান্ত আইন পাস করা হয়েছে। এ আইনে চীনের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি শত্রুর মোকাবিলায় স্থানীয় অসামরিক বাসিন্দাদের প্রথম ঢাল হিসেবে উপযুক্তভাবে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারবে। সেই লক্ষ্যে এসব অঞ্চলে আরও অনেক সীমান্ত শহর গড়ে তোলা যাবে।

ভারত এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, দুই দেশের সীমান্তের বহু অঞ্চল এখনো বিতর্কিত ও অমীমাংসিত। এ অবস্থায় নতুন আইন অনুযায়ী কিছু করলে তা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ব্যাঘাত ঘটাবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারত আশা করে নতুন এ আইনের আড়ালে চীন এমন কিছু করবে না, যা চীন-ভারত সীমান্ত অবস্থান একতরফাভাবে বদলে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত