প্রায় ২০ গ্রামের কৃষকের দেড় হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়ার জন্য ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চগড়ের তালমা নদীতে নির্মিত রাবার ড্যামটি এখন অকেজো। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর প্রথম বছরে কৃষকরা কিছুটা সেচ সুবিধা পাওয়া শুরু করলেও প্রায় সাত বছর ধরে পড়ে আছে রাবার ড্যামটি। এতে করে প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা ক্যানেলগুলো যেমন ভরাট হতে চলেছে, তেমনি কৃষকরা সেচের অভাবে বোরো মৌসুমের ধান বাদ দিয়ে অন্য আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে নদী প্রায় পানিশূন্য থাকায় রাবার ড্যামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্রেও এখন তেমন পর্যটক আসছেন না।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এজিইডি) পঞ্চগড় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নদীতে ১০টি রাবার ড্যাম নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে ওই নদীসংলগ্ন হাফিজাবাদ ও কামাত কাজলদিঘি ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় সেচসুবিধা দেওয়ার জন্য পানিপ্রবাহের নালা বা ক্যানেল নির্মাণ করা হয়। এতে সেচসুবিধায় আনার কথা ১৯টি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমি। পরের বছর থেকে স্বল্প খরচে সেচসুবিধা পায় ওই এলাকায় প্রায় ১০ গ্রামের কয়েক শ মানুষ। ফলে বোরো চাষসহ রবিশস্য চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। ড্যামের রাবার ব্যাগে বাতাস ঢুকিয়ে প্রায় ১২ ফুটের মতো ফোলানোর ফলে নদীর পানি ক্যানেল দিয়ে চলে যেত বহুদূর পর্যন্ত।
কিন্তু বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে রাবার ড্যামটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ২০১৭ সালের বন্যায় ড্যামের পানিপ্রবাহের নালাটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর ২০১৮ সালে সমিতির সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রাবার ড্যামটির পূর্ব অংশের রাবার ব্যাগের ৮ ইঞ্চি ফেটে যাওয়া অংশ সংস্কার করে পুনরায় চালু করে। কিন্তু রাবার ব্যাগ ৪-৫ ফুটের ওপর ফোলাতে না পারার কারণে নদীতে বেশি পানি ধারণ করতে না পারায় কৃষকরা সুবিধা পাননি।
অভিযোগ রয়েছে, ড্যামের উজানে নদী থেকে পাথর-বালি ও মাটি ব্যবসায়ীরা শুরু থেকে চাচ্ছিলেন না রাবার ড্যামটি সচল থাকুক। কারণ ড্যামের রাবার ব্যাগে পুরো বাতাস ঢোকালে নদীর উজানে পানির উচ্চতা ১২ ফুট বেড়ে যায়। এতে করে তাদের প্রায় ৬ মাস বসে থাকতে হয়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘি ইউনিয়নের খংগাপাড়া এলাকার কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘রাবার ড্যামটি পর্যাপ্ত ফোলানোর অভাবে এই এলাকার ক্যানেলটি পড়ে আছে। আমরা আর পানির দেখা পাইনি।’
তালমা রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন বলেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আবারও রাবার ড্যামের ব্যাগ সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়ায় ড্যামের আশপাশের কিছু মানুষ আমাদের কমিটির লোকজনদের হুমকি দিয়ে বলে বেড়াচ্ছে আগে তিন মিটার ফাটিয়েছি। আবারও সংস্কারের উদ্যোগে নিলে গোটা রাবার ব্যাগ তারা নষ্ট করে দেবে।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘রাবার ড্যামটি ফুটো হয়ে যাওয়ায় এখন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধান করবে বলে আশা করছি।’
পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘গত বছর সংস্কার করা হলেও এবার রাবার ব্যাগের গোড়ায় তিন মিটারের বেশি ফেটে রয়েছে; যা স্থানীয় জনবল দিয়ে সংস্কার করা সম্ভব নয়। আগামী মৌসুমে কৃষকরা যাতে রাবার ড্যামের সুফল পান, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে।’
