নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্র ফেডারেশন আয়োজিত কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দুপুরে শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বর থেকে ‘লাশের মিছিল’ নামে ওই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের বাধার কারণে তা পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর আন্দোলনকারীদের মেরে রাস্তায় শুইয়ে দিতে উপস্থিত ছাত্রলীগকর্মীদের নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জোহা চত্বরে আসেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। সেখানে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নেন। কর্মসূচিতে ‘এই সময়ের রাজাকার শেখ হাসিনা সরকার’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে রাজাকার উল্লেখ করায় মহব্বত মিলনকে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র ফেডারেশনের রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘সড়কে নিয়মিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানাতে কর্মসূচির আয়োজন করেছিলাম আমরা। আমাদের কর্মসূচি প্রক্টরিয়াল বডি নষ্ট করে দিয়েছে। উপরন্তু আমাকে তারা বিভিন্ন হুমকিও দিয়েছে। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ছাত্র ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক জিন্নাত আরা বলেন, ‘দেশব্যাপী সড়কে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রাণ হারাচ্ছে। এ অবস্থায় নিরাপদ সড়কের দাবি ও রামপুরায় শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে আমরা লাশের মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলাম। জোহা চত্বর থেকে লাশের মিছিল নিয়ে জিরো পয়েন্টে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্মসূচির শুরুতে সহকারী প্রক্টর এসে আমাদের প্ল্যাকার্ড নিয়ে যান। ফলে আমাদের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়।’
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর (মুখলেছুর রহমান) আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যুবককে লক্ষ্য করে বলেন “কী করো তোমরা? এদের মেরে শোয়ায়ে দাও”।’ ছাত্র ফেডারেশনের কর্মসূচির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকরা রাবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
ছাত্র ফেডারেশন কর্মীদের মারধরের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মুখলেছুর রহমান বলেন, ‘আজ (গতকাল বুধবার) পহেলা ডিসেম্বর, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এছাড়া জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ চলছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা কটূক্তিমূলক প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে লাইভ করছে। বিষয়টি দেখে আমি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে কথাটি বলেছি, শুধু ছাত্রলীগ বললে ভুল হবে।’
নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র ফেডারেশন কর্মীদের কর্মসূচিতে বাধার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লিয়াকত আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
