রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ মো. মেহেদী আলম (৪২) ও তার সহযোগী যুবরাজ খানকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শুক্রবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, মেহেদী শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাটের অন্যতম সহযোগী ছিলেন।
র্যব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার স্টাফ অফিসার (অপস্ ও ইন্ট শাখা) ফারজানা হক জানান, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে যে, সম্রাটের সহযোগী শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. মেহেদীর নেতৃত্বে পল্টন, মতিঝিল, শাহজাহানপুর ও তার আশপাশ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে র্যাব-৩ ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
তিনি জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি বাসা থেকে শুক্রবার ভোরে অবৈধ অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. মেহেদী আলম (৪২), এবং তার সহযোগী মো. যুবরাজ খানকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। বাসা ও দেহ তল্লাশি করে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গুলি, ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি চাপাতি, ৫টি ছুরি, ১টি সুইজ গিয়ার চাকু, ২টি প্লাস, ৬টি কাঁচি, ১টি স্ক্রুড্রাইভার, ৪টি অ্যান্টিকাটার, ১টি হাতুড়ি, ২টি পাসপোর্ট, ১০টি নকল সিল, ১৪টি চাঁদা আদায়ের রশিদ বই এবং ২টি প্রেস আইডি কার্ড জব্দ করা হয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মেহেদী ও তার অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পায়ে আঘাত পায়।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা পল্টন, মতিঝিল, শাহজাহানপুর ও তার আশপাশ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে অবৈধ অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে আসছিল। আটক মেহেদীর নেতৃত্বে তার সহযোগীরা অস্ত্র দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করত এবং সাধারণ জনগণকে নির্যাতন ও হয়রানি করত। তারা পুলিশের পরিচয় দিয়ে রাস্তায় পথচারীদের আটক করে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাই করত।
র্যাব জানায়, এ ছাড়া আটক মেহেদী মিথিলা এন্টারপ্রাইজের নামে পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের জন্য চাঁদা আদায় করত। তার কাছে ২টি প্রেস আইডি কার্ড পাওয়া যায়, যা সে সাধারণ জনগণকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর জন্য ব্যবহার করত। তার কাছে ১০টি বিভিন্ন রকমের সিল পাওয়া যায়, যা দিয়ে ভুয়া নথি তৈরি করে সে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করত। তাদের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় অস্ত্রসহ ৫টি মামলা রয়েছে।
