নারীর অমতে বিয়ে নয়, ডিক্রি তালেবানের

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৯ এএম

আফগানিস্তানে নারীর সম্মতি ছাড়া জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি আফগানিস্তান দখল করে নেওয়া তালেবানদের শীর্ষ নেতা মোল্লা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদার জারি করা এক ডিক্রিতে এমনটা বলা হয়। ডিক্রিতে নারীদের আর ‘সম্পত্তি’ ভাবা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টোলো নিউজ। তালেবান সরকারের অন্যতম মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ গত শুক্রবার এই ডিক্রির বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নারী কোনো সম্পদ নয়, বরং স্বাধীন ও উন্নত চরিত্রের মানুষ। শান্তির জন্য বা শত্রুতার অবসানের জন্য কেউ কোনো নারীকে অন্য কারও হাতে তুলে দিতে পারে না। সরকারের নতুন আদেশ অনুযায়ী, নারীদের বিয়ের জন্য জবরদস্তি করা যাবে না এবং সব বিধবা অবশ্যই তাদের মৃত স্বামীর সম্পত্তির অংশ পাবেন।’ ডিক্রিতে আরও বলা হয়েছে, আদালতেরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন এবং ধর্ম ও তথ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার চালানো।’

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে দেশটির জাতীয় ক্ষমতায় আসীন হয় তালেবান গোষ্ঠী। ক্ষমতার এই পটপরিবর্তনের ফলে আফগান নারীদের অবস্থা কী হবে তা নিয়ে উৎসুক গোটা বিশ্ব। আফগানিস্তান তালেবান দখলে যাওয়ার পর থেকেই নারীদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন দেশ সরব হয়েছে। কিন্তু নতুন ডিক্রিতে নারীকে মানুষ বলে গণ্য করার কথা বলা হলেও শিক্ষা এবং ঘরের বাইরে কর্মক্ষেত্রে নারীর বিচরণের সুযোগ থাকা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা দখলের পরপরই তালেবান নেতারা নারী অধিকার সমুন্নত রাখার আশ্বাস দিলেও বাস্তবিক অর্থে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এই গোষ্ঠী। এই প্রথম ডিক্রির মাধ্যমে নারী অধিকারের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিল তালেবান। কট্টর ইসলামপন্থি এই গোষ্ঠী আদর্শগতভাবে নারীর শিক্ষা, পেশাগত কাজে অংশগ্রহণ ও নারী ক্ষমতায়নের বিরোধী। তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কার্যালয় থেকে নারী কর্মীদের বিতাড়নের পাশাপাশি বন্ধ করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের নারী স্কুলগুলোও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত