মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নে এক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুককে ‘শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার’ অভিযোগ উঠেছে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী খলিল খাঁ নামের ওই ভিক্ষুক গত শনিবার রাতে সদর থানায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে সোহরাব খান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সদর থানা সূত্র জানিয়েছে, খলিল মস্তফাপুর ইউনিয়নের খৈয়রভাঙ্গা এলাকার রশিদ খাঁর ছেলে। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ওই যুবক কাজ করতে পারেন না। ভিক্ষা করেই জীবন চলে তার।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী প্রার্থী মাদারীপুর সদর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সোহরাব খানকে সমর্থন দেননি। ওই নির্বাচনে ভিক্ষুক খলিল আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবর রহমানকে সমর্থন দেন। এতেই ক্ষিপ্ত হন সোহরাব খান ও তার সহযোগীরা। গত শুক্রবার তাকে একা পেয়ে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা করে সোহরাব খানের ভাই আনোয়োর খান ও তার ছেলে সজিব খানসহ বেশ কয়েকজন।
খলিল বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে একা পেয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে সবাই মিলে মারধর করে এবং শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। আমি এ ঘটনার বিচার দাবিতে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।’
এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন খলিলের মা আম্বিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘আনারস মার্কায় ভোট না দেওয়ায় আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর করেছে। আমার এই ছেলে রাস্তায় ভিক্ষা করে। তাকে কেন মারধর করবে? যারা তাকে মারধর করেছে আমি তাদের বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহরাব খান বলেন, ‘আমি গরিবের বন্ধু। সাদা মনের মানুষ হিসেবে খ্যাত। আমি কেন ভিক্ষুককে মারধর করতে যাব। এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে আমার কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে তার একটু ঝামেলা হয়েছিল। পুলিশ এসে পরে মিটমাট করে দিয়েছে।’
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, ভিক্ষুক খলিল খাঁ শনিবার সন্ধ্যায় থানায় সোহরাব হোসেন, সোহরাব খানের ভাই আনোয়োর খান ও তার ছেলে সজিব খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মাদারীপুর পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেছেন, পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবে।
