২৪ ঘণ্টায় ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি

সারা দিনের বৃষ্টিতে নাকাল রাজধানীবাসী

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৪৫ এএম

দুর্বল হয়ে লঘুচাপে রূপ নেওয়া ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে সারা দেশের মতো রাজধানী ঢাকায়ও রবিবার সকাল থেকে গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে শহরে। টানা বৃষ্টিতে পরিবহন সংকটের পাশাপাশি ঘর থেকে বের হওয়া নগরবাসীকে পড়তে হয়েছে নানামুখী ভোগান্তিতে। সড়কে জমে থাকা পানি আর যানজটও ভোগান্তি বাড়িয়েছে আরও। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়েছে কর্মস্থলমুখী মানুষ আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও দুর্ভোগের শিকার হয়।

রাজধানী জুড়ে চলমান উন্নয়ন কাজের ফলে বেশ কিছু সড়কে পানি জমতে দেখা গেছে। গতকাল দুপুরের দিকে আজিমপুর, জিগাতলা, লালবাগ, গ্রিন রোড, ধানম-ি, বাড্ডা, রামপুরা, হাতিরঝিল, নাবিস্কো, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পল্লবীসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে সড়কেই জমে গেছে পানি।  

নগরবাসী জানায়, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সোমবার সড়কে বাস ও মিনিবাস ছিল কম। সেই সঙ্গে রিকশা বা ছোট যানবাহনগুলোরও বৃষ্টির জন্য যাত্রী পরিবহনে ছিল অনীহা। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের জটলা থাকলেও চাহিদার তুলনায় যানবাহন ছিল না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে যানবাহন পেলেও সেখানে উঠে বসা ছিল আরেকটা যুদ্ধের মতো। যাত্রীদের বৃষ্টিতে ভিজে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। মহাখালী থেকে বাংলা মোটরের অফিসে আসতে প্রায় দুই ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে নিজ কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে বলে জানালেন রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বাসা থেকে বের হয়ে দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। বাস পাওয়ার পর মহাখালী থেকে বাংলা মোটর মোড়ে আসতে সময় লেগেছে দুই ঘণ্টা। রাস্তায় বেশকিছু স্থানে পানি ছিল। তাই ফার্মগেট থেকে বাংলা মোটর পর্যন্ত যানবাহনের গতি ছিল একেবারে কম। এ রাস্তাটুকুতে মেট্রোরেলের কাজের জন্য যানবাহন চলে এক লেনে। সেখানে খানাখন্দ আর গর্তে জমে ছিল পানির জন্য বাসের পাশাপাশি ছোট যানবাহনগুলো চলেছে খুব সর্তকর্তার সাথে। এসব কারণে যানবাহনের জটলা লেগেই ছিল পুরো রাস্তায়।’

নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মিরপুরের বাসা থেকে সকালে বের হয়ে নিউ মার্কেট আসতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে। দারুসসালাম রোডের বিভিন্ন অংশে দেখা গেছে ভয়াবহ যানজট। এরপর কল্যাণপুর, শ্যামলী থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত যানবাহনের জটলা ছিল। অনেক স্থানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে দেখা যায়নি। ফলে মূল সড়কের সংযোগগুলোতে এলোমেলোভাবে অনেক যানবাহন প্রবেশ করে যানজটের সৃষ্টি করেছে।’

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সরকারি একটি দপ্তরে কর্মরত আরিফা আক্তার। তিনি বলেন, ‘নাখাল পাড়ার বাসা থেকে বের হয়েই শুরুতে লেগুনা পেতে বেশ অসুবিধা হয়েছে। এরপর ফার্মগেট এসে বাসের জন্যও অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। বাস পাওয়ার পর মৎস্য ভবনের সামনে বাস থেকে নেমে দেখলাম সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টা। আবার মৎস্য ভবনের সামনে নেমে নিজ কর্মস্থল সেগুনবাগিচা আসার জন্য রিকশা ভাড়াও দিতে হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।’

বনশ্রী বি-ব্লকের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘সদরঘাট এলাকায় ঢাকা জজ কোর্টে নিয়মিত মোটরসাইকেল দিয়ে যাতায়াত করি। আজ (সোমবার) বৃষ্টির জন্য পড়তে হয়েছে ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। ফকিরাপুল এলাকায় আসার পর পানির নিচে তলিয়ে থাকা গর্তে মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে গেছি। মোটরসাইকেলের গতি কম থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি। এরপরও হাঁটুতে বেশ চোট লেগেছে।’

গণমাধ্যমকর্মী আবির হাকিম জানান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে বের হওয়ার পর ভাটারার ছোলমাইদ এলাকার রাস্তাটিতে এসে তিনি আটকে যান। পুরো রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে থাকায় মোটরসাইকেল নিয়েও আসার সুযোগ হয়নি। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে ভিজে তিনি রওনা হন। গতকাল তিনি অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময়ই নিজেদের সফল দাবি করেন। একটি শহরের প্রকৃত অবস্থা বৃষ্টি হলে দেখা যায়। পানিতে রাস্তা তলিয়ে থাকে। বাধ্য হয়ে আতঙ্ক নিয়ে সড়কে চলাচল করতে হয়।’ 

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নি¤œচাপটি দুর্বল হয়ে একই এলাকায় নি¤œচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর ও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত