ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ

একনেকে ২৫৪১ কোটি টাকার প্রকল্প

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:১৬ এএম

বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতির পরিবেশ তৈরি এবং বিকাশের লক্ষ্যে ২ হাজার ৫৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল গভর্নমেন্ট ও অর্থনীতি সমৃদ্ধিকরণ (ইডিজিই) প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সভাকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের সপ্তম একনেক সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন হয়। প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।

সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ব্রিফিংয়ে জানান, একনেক সভায় ৭ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৬৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫৩ কোটি ৮১ লাখ এবং বিদেশি ঋণ হিসেবে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৬১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত ১০ প্রকল্পের মধ্যে ৫টি নতুন প্রকল্প রয়েছে এবং বাকি ৫টি সংশোধিত।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে ইডিজিই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প ব্যয়ের ২ হাজার ৫৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার মধ্যে ৩৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বিশ^ব্যাংকের ঋণসহায়তা পাওয়া যাবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো ও সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা হবে, যা আইটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ দক্ষতা ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ডিজিটাল নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নদী খনন ও নদীভাঙন রোধসংক্রান্ত প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী পানিসম্পদ ও নৌ মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলেছেন। এ ধরনের প্রকল্পে প্রয়োজন হলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সেখানে সমন্বয় করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগে স্পোর্টস স্কুল নির্মাণ এবং ভূ-পৃষ্ঠের পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি অনুর্বর বা অব্যবহৃত জমি সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী ধান উৎপাদন বৃদ্ধি, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্তসহিষ্ণু জাতের ধানের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নাসিমা বেগম বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৫০টি মডেল মসজিদ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ১০০টি মডেল মসজিদের কাজ প্রায় শেষের দিকে এবং বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে শেষ হবে।

সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে একনেকে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো নৌ মন্ত্রণালয়ের ‘মোংলা বন্দর থেকে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী পর্যন্ত নৌ-রুটের নাব্যতা উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ পর্যায় (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওতায় চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ক্রীড়া স্কুল প্রতিষ্ঠা (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন’ প্রকল্প, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্প এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডব্লিউএমপি)’ প্রকল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত