চট্টগ্রাম টেস্টে হারের পর প্রতিশোধ মিরপুর টেস্টে নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। দলের সঙ্গে থাকা ফিল্ডিং কোচ মিজানুর রহমান বাবুল সেই বার্তায় দিয়েছিলেন তিন দিন আগে। তার ভাষায়, আবহাওয়া তাদের পরিকল্পায় ব্যাঘাত করেছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের হার আবহাওয়া চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারছে না! মিরপুরে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ জিতবে এই চিন্তা অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো। তবে ভালো লড়াই আশা করাই যায়। কিন্তু দুদিন বৃষ্টির কারণে ভ-ুল হওয়ার পর চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের হতশ্রী ব্যাটিং সেই আশা ভেঙে দিচ্ছে। দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ৭৬ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। একই উইকেটে সকালের কঠিন কন্ডিশনে খেলে ৪ উইকেটে ৩০০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ২২৪ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের ফলোঅন এড়াতে এখনো ২৫ রান চাই। তিন চারে ২৩ রানে খেলছেন সাকিব আল হাসান। ১০ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি তাইজুল ইসলাম।
বৃষ্টির জন্য প্রায় তিন দিন ভেস্তে যাওয়া ম্যাচে ফল আনা অসম্ভব নয়। তবে দুই দলের রোমাঞ্চকর লড়াই কাম্য। পাকিস্তান সেই পথ খোলা রেখেছে ৩০০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিউত্তর দিতে পারেনি। উল্টো ব্যাটিংয়ে অসহায় আত্মসমর্পণে দুই দিনে নেমে আসা ম্যাচেও হারের শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান উইকেটে থাকায় ফলোঅন এড়ানোর প্রয়োজনীয় ২৫ রান হয়ত উঠে যাবে। আবার আজ দিনের শুরুতে সাকিব ফিরলে ফলোঅনেও পড়তে হতে পারে মুমিনুলদের! চতুর্থ দিনে দলের ব্যাটিংয়ের যে হাল তাতে ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন আগেই ধোঁয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে তখন। তাই আপাতদৃষ্টিতে এই ম্যাচে ড্র করাই বাংলাদেশের জন্য জয়ের শামিল।
চতুর্থ দিনও আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়। নয়ত বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়ত। মাত্র ২৬ ওভারেই দলের ব্যাটিং ল-ভ- হওয়াটা আসলে নিজেদের কারণে। উইকেটে পড়ে থেকে ইনিংস বড় করার বিপরীতে যেন রান নেওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। বাজে শটের ছড়াছড়িতে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন সবাই। দিন শেষে মাঠে বসে খেলা দেখা টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদও জানালেন আজহার আলির কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি ব্যাটসম্যানরা, ‘আমি উপর থেকে (গ্যালারি) খেলা দেখেছি। কেন এমন হলো জানি না। অধৈর্য ব্যাপারটা ছিল, টেস্ট ব্যাটিং বলতে যা বুঝায় সে রকম তো ব্যাটিং করিনি আমরা। কেন এই ব্যাপারটা হচ্ছে সেটা চিন্তার বিষয়। উইকেটে স্পিন হচ্ছিল এবং ওরা ভালো স্পিনও করেছে কিন্তু কোয়ালিটি স্পিন খেলার সামর্থ্য তো আমাদের আছে। হয়নি কেন বা এত তাড়াহুড়ো কেন সেটা জানি না, আমরা তো জানি যে আজ সারাদিন ব্যাটিং করার ছিল, কালকের দিনটায় টেস্ট শেষ হবে। চারটা-সাড়ে চারটা সেশন হয়ত বা। পাকিস্তান যেভাবে ব্যাটিং করেছে, বিশেষ করে আজহার আলি যেভাবে লম্বা সময় ব্যাট করল সেখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল।’
আলোর স্বল্পতার কারণে পেসারদের বল করাতে পারেনি পাকিস্তান। তাই নতুন বলেও শাহিন আফ্রিদিকে না দিয়ে স্পিনারদের টানতে হলো বাবর আজমকে। সাজিদ খান হতাশ করেননি। শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট এনে দেন এ অফস্পিনার। অভিষিক্ত মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়ে শুরু করেন। সিøপে ক্যাচ দিয়ে অভিষেকে ০ করে ফেরা জয় ভুলে যাওয়ার রেকর্ডে জায়গা করে নেন। সাইফ হাসানের মতো তিনিও বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকে ডাক মারলেন। ৮ ওভার পর্যন্ত টিকে থেকে ৩ রান করা সাদমান সাজিদের বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দেন। মুমিনুল (৫) দশম ওভারে অহেতুক রান নিতে গিয়ে আউট হলেন। সেই থেকে পরের ১০ ওভারে প্রায় দুই ওভার অন্তর আরও ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। টেস্টে তিনবার রান আউট হলেন মুমিনুল। তিনবারই মিরপুরে। ২২ রানে ৩ উইকেট অবস্থায় চা-বিরতি থেকে ফিরেও ঠা-া মাথায় খেলেননি বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। মুশফিকুর রহিম (৫) সøগ করতে গিয়ে বিলিয়ে আসেন উইকেট। লিটন ওই ওভারেই বাউন্ডারিতে ইনিংস শুরু করেন। দুই ওভার পর সাজিদকে উইকেট ছেড়ে স্ট্রেইট মারতে গিয়ে ৬ রানে কট অ্যান্ড বোল্ড হন। এদিকে মিরাজ আটে নেমে সাকিবকে সঙ্গ দিতে পারেননি। হাঁটু গেরে অহেতুক ক্রস খেলতে গিয়ে ০ রানে ফেরেন বোল্ড হয়ে। আউট হওয়ার ধরন দেখে সাকিব নিজেই অপর প্রান্ত থেকে বাতাসে ব্যাটের বাড়ি মেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শান্ত ৫০ বলে ৩০ করেছেন কিন্তু আউট হতে পারতেন তিনিও। একটি নিশ্চিত আউটে বল ‘নো’ হওয়ায় বেঁচে যান। প্রায় ১০ বছর পর সাতে নামা সাকিব ৭ রানে ‘রান আউট’ হওয়া থেকে বাঁচেন। এরপর উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে তাইজুলকে নিয়ে দিনের শেষ পর্যন্ত টানেন ইনিংস। আউট হয়ে ফিরতে পারতেন ৭ রানে। তার ভাগ্য ভালো স্টাম্পে লাগেনি সাজিদের থ্রো।
এই ইনিংসে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নিলেন সাজিদ। দিন শেষে তার উইকেট সংখ্যা ৬। আউট হওয়া ৭ ব্যাটসম্যানের ৬টিই তার শিকার। একটি রান আউট না হলে ১০ উইকেটের চেষ্টা করতে পারতেন। তবে একটি রেকর্ড তার সামনে উজ্জ্বল। বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের হয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৭৭ রানে ৭) দানিশ কানেরিয়ার। ৩৫ রানে ৬ উইকেট নেওয়া সাজিদ তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
