করোনা মহামারীতেও বিশ্বে ধনীদের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। সম্পদের বৈষম্যের ওপর ভিত্তি করে দ্য ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট বা বৈশ্বিক অসমতা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ১৬ হাজার ৭০০ ইউরো উপার্জন করেছেন। বিশ্বের ১০ শতাংশ ধনীর হাতেই বিশ্বের ৭৬ শতাংশ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ৫২ ধনীর সম্পদ গত ২৫ বছরে ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের মোট আয়ে নারীদের অংশ ৩৫ শতাংশের কম। ১৯৯০ সালে এটি ছিল ৩০ শতাংশ।
প্যারিসভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাব বলছে, ২০২০ সালে বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যে ডুবে গেছেন। বিশ্বে মাত্র ১০ শতাংশ ধনীর হাতে কুক্ষিগত রয়েছে মোট আয়ের ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে নিম্নআয়ের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে বৈশ্বিক আয়ের মাত্র ৮ শতাংশ।
১৯৯৫ সালের পর থেকে বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পদ ১ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারীতে অধিকাংশ ধনীর সম্পদ বেড়েছে। ইউরোপে সম্পদের ক্ষেত্রে কিছুটা সমতা লক্ষ করা গেছে। সেখানে মোট আয়ের ৩৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ১০ শতাংশ ধনী। তবে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আমেরিকায় এই চিত্র পুরোপুরি ব্যতিক্রম। সেখানে মোট আয়ের ৫৮ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করছে ১০ শতাংশ ধনী।
ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাবের সহ-পরিচালক লুকাস চ্যান্সেল বলেন, ‘একদিকে ধনকুবেরের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে আরও ১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যে ডুবে যাচ্ছেন।’
প্রতিবেদনে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম ‘অসম’ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশটিতে অর্ধেক জনগোষ্ঠী ৫৩ হাজার ৬১০ রুপি আয় করে। বিপরীতে তাদের চেয়ে অন্তত ২০ গুণ বেশি আয় করে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ, তাদের আয় প্রায় ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৫২০ রুপি। অভিজাত শ্রেণি বেড়ে যাওয়ায় ভারত অসম ও দরিদ্র দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
