রাজশাহীর ছাত্রলীগ নেতা ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী শাহেন শাহ ওরফে শাহিন হত্যার আলোচিত মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুনসুর রহমানসহ ৯ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। মামলার অন্য ২২ আসামিকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। ১৪ বার পেছানোর পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ওএইচএম ইলিয়াস হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিকে একইদিন জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তার দুই ভাইসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে চট্টগ্রামের এক বাড়িতে ডাকাতি ও চার নারীকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রাজশাহীর শাহিন হত্যা মামলায় আদালত ফাঁসির ৯ আসামিকে ১ লাখ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন পাওয়া ২২ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে।
নিহত শাহেন শাহ রাজশাহী কোর্ট কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি নগরীর গুড়িপাড়া এলাকার প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। তার বড় ভাই রজব আলী বর্তমানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
শাহিন হত্যা মামলার ৩১ আসামির সবার সাজা হয়েছে। আলোচিত এ মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন রাসিকের এক নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপিপন্থি সাবেক কাউন্সিলর মুনসুর রহমান। রায়ে তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলো হাসানুজ্জামান হিমেল (৩৮), তৌফিকুল ইসলাম চাঁদ (৪৫), মো. মহাসীন (৫০), মো. সাইরুল (২৬), রজব (৩২), বিপ্লব (৩৫), মো. মমিন (৩০) এবং আরিফুল ইসলাম (২৬)। সবার বাড়িই নগরীর গুড়িপাড়া ও আশপাশ এলাকায়। এর মধ্যে মমিন ও আরিফুল পলাতক।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়ারা হলো লাল মোহাম্মদ ওরফে লালু, মাহাবুল হোসেন, সাত্তার, সাজ্জাদ হোসেন, বখতিয়ার আলম রানা ওরফে রংলাল, হাসান আলী, মাসুদ, রাসেল, রাজা, মর্তুজা, সুমন, আসাদুল, আখতারুল, জইদুর রহমান, ফরমান আলী, জয়নাল আবেদিন, রাজু আহমেদ, আকবর আলী, সম্রাট হোসেন, টিয়া আলম, আজাদ হোসেন ও মাসুম। এদের মধ্যে আজাদ ও মাসুম পলাতক।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট গুড়িপাড়া সাকিনের ক্লাব মোড়ে শাহেন শাহ ওরফে শাহিনকে আসামিরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই নাহিদ আক্তার নাহান বাদী হয়ে পরদিন নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার বাদী নাহিদ আক্তার নাহান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর হোক এটাই আমাদের চাওয়া।’
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী হামিদুল হক সাংবাদিকদের জানান, তারা এ রায়ে সন্তুষ্ট নন। উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।
জয়পুরহাটে ভাই হত্যায় ২ ভাইয়ের প্রাণদণ্ড : জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তার দুই ভাইসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নূর ইসলাম ১৪ বছর আগের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা হলো আক্কেলপুরের আওয়ালগাড়ী গ্রামের তাসেম মণ্ডলের দুই ছেলে সেকেন্দার আলী (৫০) ও শহীদুল ইসলাম (৪৮) এবং ক্ষেতলাল উপজেলার উলিপুর-জিয়ানীপাড়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে বাবু (৪২)।
চট্টগ্রামে ডাকাতির সময় ধর্ষণে ৫ জনের যাবজ্জীবন : চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান এলাকার এক বাড়িতে ডাকাতি ও চার নারীকে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঈন উদ্দীন এ রায় দেন।
দণ্ড পাওয়ারা হলো মিজান মাতব্বর ওরফে শহিদুল ইসলাম (৪৫), আবু সামা (৩৭), মহিদুল ইসলাম মুন্সি (৩১), জহিরুল ইসলাম (২৪) ও ইলিয়াছ শেখ (৩৬)। এদের মধ্যে ইলিয়াছ শেখ পলাতক।
কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী রাহিদুল ইসলামকে (৩৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে এক বছরের সাজার আদেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন।
যাবজ্জীবন পাওয়া রাহিদুল ইসলাম দৌলতপুরের তারাগুনিয়া গ্রামের ম-লপাড়ার ইন্তাজ আলীর ছেলে। সে পলাতক।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিরা
