আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির এক গ্রাহকের প্রতারণার মামলায় আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেছেন অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও শবনম ফারিয়া। গতকাল রবিবার আইনজীবীদের মাধ্যমে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক আবেদন করেন তারা।
কার্যতালিকায় এলে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনের ওপর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগাম জামিনে দুজনের দুটি আবেদনের অনুলিপি রাষ্ট্রপক্ষের কাছে এসেছে। আবেদনকারীরা বলেছেন তারা গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থেকে আগাম জামিন চেয়েছেন। শুনানির জন্য আবেদন দুটি সোমবার কার্যতালিকায় থাকবে।’
গত ৪ ডিসেম্বর ইভ্যালির এক প্রতারিত গ্রাহক রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় এই দুই অভিনেত্রী, গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান, ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল, তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, প্রতারণার মাধ্যমে ইভ্যালি গ্রাহকের যে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাতে আসামিরা সহায়তা করেছেন। তাহসান খান ইভ্যালিতে শুভেচ্ছাদূত ছিলেন। মিথিলা ইভ্যালির ‘ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইল’র শুভেচ্ছাদূত এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন শবনম ফারিয়া।
তিন বছর আগে দেশে ইভ্যালির কার্যক্রম শুরু হয়। গাড়ি, মোটরসাইকেল, স্মার্ট টিভি, এয়ারকুলার, ফ্রিজ, গৃহস্থালির আসবাবপত্র, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রিতে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে গ্রাহকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বিজ্ঞাপনে অনেকেই আকৃষ্ট হয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা অগ্রিম দিয়ে পণ্যের অর্ডার করেন। অনেকে ব্যাংকঋণ, ধারদেনা, জমি বিক্রি করে ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করে পরে পণ্য কিংবা টাকার কিছুই ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থানায় ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন এক গ্রাহক। ওইদিনই মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে এ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
