মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছবির কপিরাইট (স্বত্ব) কোনো ব্যক্তির নয়, এগুলোর মালিকানা রাষ্ট্রের বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রকাশিত দুটি বইয়ের স্বত্ব নিয়ে করা একটি রিট মামলা নিষ্পত্তি করে গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেয় বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায়ে বলা হয়েছে, কোনো প্রকাশনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু বা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ছবি ব্যবহার করতে চাইলে সেখানে সূত্র উল্লেখ এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে হবে।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দুটি বইয়ের মেধাস্বত্ব ও গ্রন্থস্বত্ব নিয়ে গত বছর ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এতে তিনি বলেন, মুজিববর্ষে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’-এর জন্য আটটি বই কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ এবং ‘৩০৫৩ দিন’ নামে দুটি বইয়ের মেধাস্বত্ব ও গ্রন্থস্বত্ব জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এই দুটি বইয়ের পাশাপাশি অধ্যাপক নাসরিন আহমদ সম্পাদিত ‘অমর শেখ রাসেল’ বইটিরও মেধাস্বত্ব মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘জার্নি মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড’ ও ‘স্বাধীকা পাবলিশার্স’ নামে দুটি প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার সাংবাদিক নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে।
এতে আরও বলা হয়, সাংবাদিক নাজমুল ‘জার্নি মাল্টিমিডিয়া’ থেকে প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ ও বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন নিয়ে ‘৩০৫৩ দিন’ নামে দুটি বই ১৭ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় এবং তার স্ত্রী শারমীনের স্বাধীকা পাবলিশার্স থেকে ‘অমর শেখ রাসেল’ নামে একটি বই ৩ কোটি ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯০০ টাকায় কেনা হয়। গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ ও রুল দেয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় আদালত।
গত বছর ১২ নভেম্বর হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে কমিটি। এতে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ এবং ‘৩০৫৩ দিন’ বই দুটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই। বই দুটির প্রথম প্রকাশক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জেল কর্র্তৃপক্ষ হলেও পরে প্রকাশক পরিবর্তন করা হয়। তাই দুটি বইয়ের গ্রন্থস্বত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জেল কর্র্তৃপক্ষের থাকার পক্ষে মত দেয় কমিটি। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে এ রায় হলো।
আদালতের রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক ও সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সাংবাদিক নাজমুল হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ এবং বঙ্গবন্ধুর কারাজীবন নিয়ে ‘৩০৫৩ দিন’ বইয়ের মেধাস্বত্ব সাংবাদিক নাজমুল হোসেনের জার্নি মাল্টিমিডিয়ার হলেও এতে ব্যবহৃত ছবি ও চিত্রকর্মের স্বত্ব তার বা প্রকাশনীর নয়। বইয়ের প্রকাশিত সংস্করণে চিত্রকর্ম বা ছবির সূত্র উল্লেখ এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার যদি না থাকে, তাহলে একটি আলাদা পৃষ্ঠা যুক্ত করে সূত্র ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে বলা হয়েছে।
রিটকারী সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের ছবিএটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কারও নামে থাকতে পারে না। প্রকাশ হওয়া যেসব বইয়ে এ ধরনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোতে আলাদা পাতায় সূত্র দিতে হবে।’
