বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিনসংক্রান্ত নথি নিয়ে আজ বুধবার হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজকের কার্যতালিকায় বিষয়টি শুনানির জন্য রাখতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৩ জুন খালেদা জিয়ার ভিন্ন ভিন্ন তারিখে জন্মদিনসংক্রান্ত নথি তলব করেছিল হাইকোর্ট। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, পররাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উদ্দেশ্যে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে আসে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ (গতকাল) পাসপোর্ট অফিস, নির্বাচন কমিশন, ম্যারেজ সার্টিফিকেট, করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের তথ্য, এসএসসির নিবন্ধনের তথ্য এসেছে। সেখানে পাঁচটি জন্মদিনের তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্মম হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন, এদিন খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরাও তার সঠিক জন্ম তারিখটি জানতে চাই। আদালত শুনানির জন্য আগামীকাল (আজ) দিন ধার্য করেছে।’
রিট আবেদনের নথির বরাতে আইনজীবীরা জানান, পাঁচটি তারিখে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে তার মাধ্যমিক পরীক্ষার নম্বরপত্রে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। বিবাহ নিবন্ধনে জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৪৪ সালের রয়েছে ৪ আগস্ট। আবার ২০০১ সালে তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে (এমআরপি) জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদনে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৪৬ সালের ৮ মে। আর খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করেন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের দিন।
