আমি ভাষার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি: পাওলো কোয়েলহো

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৫৪ এএম

দশ বছর আগে, জীবনের একটা অধ্যায়ে অন্যান্যদের থেকে সম্পূর্ণরূপে অনভিজ্ঞ জীবন কাটছিল আমার। অনিশ্চিত, স্থানচ্যুত, বিভ্রান্ত, ভীত, আমি জানতাম না কোথায় আমাকে সংযুক্ত হওয়া এবং আমার কী করা উচিৎ। ওই সময় আমি কিছু উদ্ধৃতির সামনে এলাম; যেমন: ‘পৃথিবীতে প্রত্যেকের জন্য কিছু মূল্যবান সম্পদ মজুদ আছে। আমরা, মানুষের হৃদয় কদাচিৎ ঐসব সম্পদের কথা জানি। কারণ আমরা এসবের খুঁজে বেশিদূর যেতে চায় না। যখন আপনি অন্তর দিয়ে কিছু চান, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড আপনাকে তা অর্জনে নিঃস্বার্থ সহায়তা করতে প্রস্তুত।’ 

কথাগুলো দ্য অ্যালকেমিস্ট— খ্যাত জনপ্রিয় লেখক পাওলো কোয়েলহোর। ব্রাজিলিয়ান ঔপন্যাসিকের সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের উদ্দেশ্যে অনুবাদ করেছেন উপল বড়ুয়া 

কোয়েলহো, আপনি কি সাংস্কৃতিক সেতু বন্ধনে কৌতুহলী?

পাওলো কোয়েলহো: একজন লেখক হলে, আপনাকে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও বিভিন্ন পটভূমিতে কৌতুহলী হতে হবে। আপনি কেবল এতে নিজের গ্রামের গল্প লিখছেন না, আপনি সেখানে হয়তো অল্পবিস্তর নিজের গ্রামকে দেখাচ্ছেন। কিন্তু অন্যান্য গ্রামকে বুঝাতে চাচ্ছেন। তলস্তয়ের মতো বলি, ‘যা একটি গ্রামে ঘটে তা সর্বত্র ঘটে।’

আপনার মধ্যে কি এই ধরণের কোনো অ্যাপ্রোচ তৈরি হয়েছিল?

পাওলো কোয়েলহো: শিশুকালে আমি বিভিন্ন যোগান ও সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত ছিলাম— আরব, ইহুদি, আমেরিকানদের সংস্কৃতিতে আমি কৌতুহলী হযেছিলাম। শোনার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ এমন কোনো মিউজিক আমরা বাছাই করতাম না। শোনার জন্য, তুমি পছন্দ করো বা না করো এমনকিছু বাছাই করতাম আমরা। যখন লেখালেখি শুরু করি আমি দেখতে শুরু করলাম, এসব যোগান নিজেই নিজেই প্রতীয়মান হচ্ছে আমার সামনে। এবং তারপরে আমি খুব আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম।

আপনি কি অনুভব করেন যে আমাদের মধ্যে পূর্বের চেয়ে আজ আরও অধিক সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধ হয়েছে?

পাওলো কোয়েলহো: আজ আমি দেখি সকল সেতু বন্ধ হচ্ছে। এটা মনে হয় যে, কেউ কাউকে তেমন আর বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না। আমি অনুভব করি, একজন মানুষ ও ব্যক্তি হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব, যে চেষ্টা করছে— সবার মতো যে পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলো সম্পর্কে ভাবছে— মাল্টিকালচারাল যোগাযোগের গুরুত্ব বাড়াতে। যতক্ষণ না তুমি একটি সেতু পার করছো, কোনোকিছুই হারাচ্ছে না। কিন্তু ঐ মুহুর্ত হতে তুমি অন্য সংস্কৃতির গল্পবলা বা গানের কিছুই অধিক সমভাবে বুঝতেই পারবে না, তখন আমরা একে অপরের আগন্তুক হয়েই রয়ে যায় এবং পরিস্থিতি জটিল হতে থাকে।

ওয়েল, আমি বললাম যে অনলাইন উপস্থিতিতে আপনি একটা সাংস্কৃতিক সেতু নির্মাণ করছেন— আপনার ২৬ মিলিয়ন ফেসবুক লাইকস, ১০ মিলিয়ন টুইটার ফলোয়ার্স, এবং ২০০৬ থেকে ব্লগিংয়ে তৎপর। কেন আপনি ইন্টারনেটে এতো এ্যাক্টিভ?

পাওলো কোয়েলহো: এটা একটা নতুন প্ল্যাটফর্ম, একজন লেখক হিসেবে আমাকে নতুন প্ল্যাটফর্ম খুঁজতে হবে যাতে লেখালেখির পদ্ধতিটাকে ব্যবহার করতে পারি। ইন্টারনেট তাদের মধ্যে একটি। লোকজন আজকাল ইন্টারনেটের কারণে খুব পড়ছে এবং লিখছে। তাই ভার্চ্যুয়াল পৃথিবীটা আমার পাঠকদের শোনা এবং পাঠকদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার একটা পথ। এটা একটা পথ যাতে তারা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। আমি ভাষার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি। তাই আমি ব্লগে আমার টেক্সট দেওয়া শুরু করি যাতে লোকজন সহজে ডাউনলোড করতে পারে এবং ছড়িয়ে দিতে পারে। এসবের পেছনে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই। এটা কেবল আনন্দের জন্য, সত্যিকার আনন্দের জন্য তুমি যা করো অনেকটা তার মতো। ইন্টারনেটে দেওয়ার জন্য আমার বিশেষ টেক্সট আছে এবং আমি ওসব ঐখানেই দিই। তাদের জন্য লিখিত টেক্সটার প্রতি কত পরিমাণ পাঠক সাড়া দেয় তার দিকে আমি খুব কৌতুহলী।

তাহলে আপনি আপনার মনের তাড়না থেকে কোনোকিছুই লেখেন না?

পাওলো কোয়েলহো: আমি লিখি কারণ আমি আমার চিন্তাভাবনা দর্শক-পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। আমি জানিনা বই পৃথিবীকে একটা চমৎকার জায়গা বানাতে পারে কিনা। আমি ঐ নৈর্ব্যত্তিকতা থেকে লিখি না। আমি যা জানি তা হলো, আমি দেখি আমার পাঠকরা একটা সমালোচনাপূর্ণ বস্তু সৃষ্টি করছে, তাই কমপক্ষে এই পৃথিবীটারে আমরা একটা ভিন্ন পন্থায় বুঝতে পারি। তোমার নিজেকেই নিজের পরিবর্তন দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত