সারা দেশে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৫৫ পিএম

বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, তোপধ্বনি, কুচকাওয়াজ, বিজয় শোভাযাত্রা, বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আলোকসজ্জা, আলোচনাসভা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা ইত্যাদি। ব্যুরো, ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর

চট্টগ্রাম : সূর্য ওঠার আগে শহীদ মিনারে হাজির হন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। প্রথমে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ফুল দেন বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকসহ অনেকে। এরপর একে একে বিভিন্ন সংগঠন শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় পুরো শহীদ মিনার। পরে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে।

খুলনা : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে পঞ্চাশবার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন খুলনা মহানগর ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র, বিভাগীয় কমিশনার, কেএমপির পুলিশ কমিশনার, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, খুলনা শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন। পরে জেলা স্টেডিয়ামে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী হয়।

গাজীপুর : সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুরু হয়। সকাল পৌনে ৭টায় জেলা শহরের রাজবাড়ী মাঠে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তক অর্পণ করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির, জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা পুলিশ এসএম শফিউল্লাহ। এরপর শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও বর্ণিল ডিসপ্লের আয়োজন করা হয়।

বান্দরবান : সকালে মেঘলা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে মহান শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। পরে বান্দরবান বাসস্টেশন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ফলক এবং বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, পুলিশ সুপার জেরিন আখতার প্রমুখ।

ঝালকাঠি : ভোরে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক জোহর আলী ও পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন। এরপর শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে সম্মিলিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

জয়পুরহাট : ৫০ বার তোপধ্বনির পর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিবসের সূচনা হয়। শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান রকেট, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোলায়মান আলী প্রমুখ।

খাগড়াছড়ি : সকালে চেঙ্গী স্কোয়ারস্থ স্মৃতিস্তম্ভে ৫০ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় পুষ্পস্তবক অর্পণ। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, এরপর ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু প্রমুখ শ্রদ্ধা জানান।

মাগুরা : নোমানী মায়দানে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কু-ু, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নাসির বাবলু প্রমুখ।

নীলফামারী : ৫০ বার তোপধ্বনির পর শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতার অমøান স্মৃতিসৌধ্যে পু®পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে পু®পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী। এরপর বড় মাঠে কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত অনুষ্ঠিত হয়।

পঞ্চগড় : তোপধ্বনির পর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজের পর জেলা পরিষদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়।

পটুয়াখালী : তোপধ্বনির পর সার্কিট হাউস থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবুল হাসেম স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজে মিলিত হয়।

রাজবাড়ী : জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠ রাজবাড়ী রেলে গেটে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি চত্বরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। পরে শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ। দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

রাঙ্গামাটি : বিজয়ের আনন্দ দুর্গম পাহাড়ের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবার বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ রাঙ্গামাটির দুর্গম গ্রাম কাইন্দাকারিক্ষং পাড়ায় আয়োজন করে বিজয় উৎসব ও ফ্রি চিকিৎসাসেবা।

শেরপুর : মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ, পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পাল, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এ ছাড়া, বিভিন্ন বিভাগ, জেলা-উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত