গাজীপুরের কালীগঞ্জে অতিরিক্ত মাস্ক না দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক জারিকারককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে কলেজের এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিজয় দিবসের বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে গতকাল শুক্রবার অভিযোগ করেন তারেক ভূঁইয়া নামের ওই জারিকারক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শরীফ হোসেন নামের ওই প্রভাষক বলেন, ‘আমি কারও গায়ে হাত তুলিনি। বরং ইউএনওর কার্যালয়ে কাজ করার গর্বে তারেক আমাকে মারতে উদ্যত হয়েছেন।’
শরীফ হোসেন সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক।
জারিকারক তারেক ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজয় দিবস উপলক্ষে কালীগঞ্জ আরআরএন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শপথবাক্য পাঠ অনুষ্ঠান শুরুর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ মাঠে উপস্থিত সবাইকে মাস্ক দেওয়া হয়। এ সময় প্রভাষক শরীফ হোসেনকেও একটি মাস্ক দেন ইউএনও অফিসের অফিস সহকারী মিঠুন দত্ত। কিন্তু প্রভাষক শরীফ আরও পাঁচটি মাস্ক চাইলে মিঠুন তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে মিঠুনকে গালাগাল করেন প্রভাষক শরীফ।
জারিকারক তারেক ভূঁইয়া বলেন, গালাগালের প্রতিবাদ করায় প্রভাষক শরীফ আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। শিক্ষকের ঘুসিতে আমার চোখের নিচে জখম হয়েছে। আমাকে মারতে বাধা দিলে শামসুন্নাহার নামের আমাদের এক সহকর্মীর গায়েও হাত তুলেছেন ওই শিক্ষক। মিঠুন দত্ত জানান, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে তিনি ও শামসুন্নাহার ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেছেন।
সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌস মিয়া বলেন, জাতীয় একটি কর্মসূচিতে এ ধরনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসসাদিকজামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
