অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

হোটেল-মোটেলে অভিযান চালাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৭ এএম

কক্সবাজারে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়কারী পর্যটন ব্যবসায়ীদের ধরতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করতে করা হচ্ছে মাইকিং।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ১৬ ডিসেম্বরের সরকারি ছুটিতে বিপুলসংখ্যক কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। এই সুযোগে কিছু হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছিলেন। তাই ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। অভিযানে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কারণে বেশ কিছুসংখ্যক পর্যটকদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ছুটি শেষ হওয়ায় শনিবার থেকে বেশিরভাগ পর্যটকের কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা উল্লেখ করে এএসপি মহিউদ্দিন বলেন, ‘পর্যটক চলে গেলেও আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টে পুলিশ গিয়ে বুকিং খাতা ও রিসিভ বই থেকে শুরু করে সবকিছু তদন্ত করছে। যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে কক্সবাজার পর্যটনের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আমরা তাদের চিহ্নিত করছি এবং সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মুরাদ ইসলাম জানান, দুদিন ধরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোনসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে মনিটরিং করছে। যেখানে অনিয়ম, সেখানে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবারও সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।

তিনি জানান, শুক্রবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দুটি হোটেলকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনে পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ ডিসেম্বর টানা ৩ দিনের সরকারি ছুটিতে পর্যটন শহর কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নামে। এর সুযোগ নিয়ে কিছু হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। সাধারণ মানের একটি রেস্টুরেন্টে শুধু ডাল-ভাতের দাম রাখা হয় ৪০০ টাকা। এক প্লেট ভাত ও আলুভর্তার দাম রাখা হচ্ছে ৩০০ টাকা। পাশাপাশি শহরের অটোবাইক ও রিকশাচালকরাও অতিরিক্ত ভাড়ায় আদায় করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত