‘মিথ্যা অভিযোগে’ মামলা

বিজয়ের মাসে বন্দি মুক্তিযোদ্ধার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৭ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিজয়ের মাসে কারাবন্দি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ছাত্তারের (৭৮) নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পৌর শহরের সড়ক বাজারে আইনজীবী সিরাজুল হক পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ছাত্তারকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, বিজয়ের মাসে মিথ্যা অভিযোগের মামলায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ছাত্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই মামলার বাদী একজন ভূমিদস্যু।

মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সৈয়দ জামসেদ শাহ’র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহার মালদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ বোরহান উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম খাদেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম হেলাল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছাত্তার মিয়া আখাউড়া শহীদ স্মৃতি কলেজে নৈশ প্রহরী হিসেবে চাকরি করতেন। তার বসবাসের কোনো জায়গা ছিল না। প্রায় ৩৫ বছর আগে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা এ. এম. মো. ইছহাক (বীরপ্রতীক) তাকে (মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তার মিয়া) কলেজের মালিকানাধীন জায়গা পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেন। সেই জায়গায় তিনি বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক ভেন্ডার সেই জায়গা ও বাড়ি তার নিজের বলে দাবি করেন। তিনি তার সহযোগীদের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারকে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া দেখিয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা বকেয়া বাড়ি ভাড়া দাবি করেন। এছাড়া কথিত ওই বকেয়া বাড়ি ভাড়ার দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও তার দুই ছেলেকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। এরপর গত ২ ডিসেম্বর সেই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তার মিয়াকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে তার দুই ছেলেকে জামিন দেয় আদালত।

বক্তারা আরও বলেন, বিজয়ের মাসে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কারাগারে আটক রেখে জাতিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে কারাগারে পাঠানোয় তদন্ত করে ‘ভূমিদস্যু’ রফিকুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে আখাউড়া শহীদ স্মৃতি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছাত্তার মিয়া যে জায়গাটিতে বসবাস করেন সেটি আখাউড়া শহীদ স্মৃতি কলেজের জায়গা। কলেজ থেকে তাকে থাকার জন্য দেওয়া হয়েছিল। একটি ভূমিদস্যু চক্র জালিয়াতি করে জায়গাটি গ্রাস করার অসৎ উদ্দেশ্যে ছাত্তার মিয়াকে উচ্ছেদ করতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত