পেকুয়ায় চর দখল করে বাঁধ নির্মাণ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৫৪ পিএম

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার প্রবহমান গুরুত্বপূর্ণ নদী ‘ভোলাখাল’ এর বুকে জেগে ওঠা চর দখল করে বাঁধ তৈরি করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে চর দখল করে বাঁধ তৈরির কাজ চালিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন ও পরিবেশবাদী মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ও মগনামা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ভোলাখাল নদী প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। ভোলাখাল বঙ্গোপসাগরের শাখা নদী হিসেবেও পরিচিত। বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধা মাঝির ঘোনা গ্রামের পশ্চিমাংশে ভোলাখালের প্রায় দশ একরের বেশি জায়গা ভরাট হয়ে চরে রূপান্তরিত হয়েছে। ৮/১০ বছর আগে সেখানে উপকূলীয় বন বিভাগ বনায়নও করেছিল। কিন্তু বন বিভাগের অবহেলায় বনায়নটি বর্তমানে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এরপর থেকে চরে দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের। বোধা মাঝির ঘোনা গ্রামের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সরকারের বিভিন্ন দপ্তর চরের সরকারি খাস জায়গা ইজারা নিয়েছেন মর্মে দাবি করে লবণ ও চিংড়ি চাষ করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা এ কাজ করে এলেও উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে দিন দিন সরকারি জমি দখলকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধা মাঝির ঘোনা গ্রামের ছৈয়দ নুর মাস্টারের ছেলে উপজেলা যুবদলের প্রভাবশালী নেতা সাজ্জাদ নুর গত কয়েক দিন ধরে একটি স্ক্রেভেটার মেশিন দিয়ে ভোলাখালের চরে বাঁধ তৈরি করছেন। বাঁধ তৈরির কারণে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মগনামার বাইন্যা ঘোনা অংশে নির্মিতব্য বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি মহাসড়ক নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

জানতে চাইলে চর দখলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সাজ্জাদ নুর বলেন, ‘আমি ভোলাখালের চরের জায়গাটি বন্দোবস্ত নিয়েছি। প্রতি বছর এখানে লবণের চাষাবাদ করে আসছি।’ তবে কখন, কোন দপ্তর থেকে বন্দোবস্ত নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা জানান, নদীর চর ইজারা দেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। গুরুত্বপূর্ণ এ নদী বর্ষাকালে পেকুয়ার কয়েকটি ইউনিয়নকে বন্যামুক্ত করে। নদীতে বিভিন্ন রকমের জীববৈচিত্র্যের বিচরণও রয়েছে। চরে বাঁধ দেওয়া হলে বর্ষাকালে নদীর পানি চলাচলের গতিপ্রবাহে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করবে। তাই নদীর চরের জায়গা যদি কোনো ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে তা অবিলম্বে বাতিল ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে এগিয়ে আসতে হবে।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বোধা মাঝির ঘোনার পশ্চিমাংশে ভোলাখালের চর কেউ ইজারা নিয়েছে কি-না জানা নেই। খালের চরে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণে কেউ জড়িত থাকলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নদী, খাল বা নদীর চর দখলের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত