বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হত্যা স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৩০ এএম

চট্টগ্রামে যৌতুকের জন্য স্বামীর নির্যাতনে মাহমুদা খানম আঁখি (২১) নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় নগরীর সার্জিস্কোপ ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্বজনরা বলছেন, পেটে স্বামীর লাথির আঘাতে খাদ্যনালি ছিঁড়ে আঁখির মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া আঁখি নগরীর বেসরকারি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির এলএলবি তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আইনজীবী আনিসুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‘স্বামীর নির্যাতনে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী এলমা চৌধুরী মেঘলার (২৬) মৃত্যুর ছয় দিনের মাথায় চট্টগ্রামের বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী আঁখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। মেঘলাকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার স্বামী গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন।

আঁখি চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর জলদী গ্রামের মফিজুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী আনিসুলের গ্রামের বাড়িও একই এলাকায় হলেও থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকার পাঠানিয়া গোদার শওকত আবাসিক এলাকায়। আঁখি তার স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। আনিসুল চট্টগ্রামের আদালতে আইন পেশায় রয়েছেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি মো. মঈনুর রহমান জানান, আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে রবিবার রাতেই নগরীর চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আঁখির স্বামী আনিসুল ইসলাম, তার মা ফরিদা আক্তার ও বোন হামিদা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করতেন আনিসুল। দুই মাস আগে যৌতুক হিসেবে আঁখির কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ঘরে আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন করতেন। পরে আঁখি বিষয়টি পরিবারকে জানান। গত ১৩ ডিসেম্বর স্বামী তাকে প্রচণ্ড মারধর করেন। পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। ১৮ ডিসেম্বর পেটে ব্যথা অনুভব করলে আঁখিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়।

বোনের মৃত্যুর জন্য তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দায়ী করে আঁখির বড় ভাই মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যৌতুকের জন্য গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে স্বামী আনিসুল ইসলাম, তার মা ফরিদা আক্তার ও বোন হামিদা বেগম আমার বোন আঁখিকে খুব মারধর করে। এ সময় তার পেটে আঘাত লেগে খাদ্যনালি ছিঁড়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত রবিবার সন্ধ্যায় মারা যায় আঁখি। এই নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। আমার বোনের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

চান্দগাঁও থানার ওসি মঈনুর রহমান গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে জানান, আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাইয়ের করা মামলায় স্বামী আনিসুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ময়নাতদন্ত শেষে আঁখির মরদেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্যাতনের কারণে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।’

আঁখির মৃত্যুর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগের ছাত্রী এলমা চৌধুরী মেঘলার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে মেঘলার মৃত্যু হয় অভিযোগে সেদিন রাতেই রাজধানীর বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন তার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। মেঘলার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, তার শরীরের ৯ জায়গায় আঘাতের জখম পাওয়া গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত