পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী পথসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টার লাগানো, সভাসহ যাবতীয় নির্বাচনী কার্যক্রম-প্রচার বন্ধ করে দিতে কর্মী-সর্মথকদের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন।
এমন ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রহল্লাদপুর ইউনিয়নে। এখানে আওয়ামী লীগ সমর্থীত নৌকার প্রার্থী নুরুল হক আকন্দ।
এ প্রার্থী তার বক্তব্যে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ইউনিয়নের ২৭ গ্রামের কোথাও ঢুকতে দেওয়া হবে না ও নির্বাচনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
কোথাও পোস্টার লাগানো হলে দ্রুত যেন তাকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও বক্তব্য দেন।
তার এমন বক্তব্যের দেড় মিনিটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, তিনি কর্মী-সমর্থক নিয়ে রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। এর মধ্যে বেশ কিছু কর্মীকে মারধর করা হয়েছে।
কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা চেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রসাশক ও পুলিশ সুপার বারাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে প্রহল্লাদপুর ইউনিয়নের লোহাজাছিয়া বাজারে এক পথসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ সমর্থীত নৌকার প্রার্থী নুরুল হক আকন্দের কর্মীরা। এ সময় হ্যান্ড মাইকে কর্মী-সর্মথদের নিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন তিনি।
তিনি বক্তব্যে বলেন, এ প্রহল্লাদপুর ইউনিয়নের ২৭ গ্রামের কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো পোস্টার লাগাতে দেওয়া যাবে না। নির্বাচনী কোনো কার্যক্রমের জন্য কোনো গ্রামেও ঢুকতে দেওয়া হবে না প্রচারও চালাতে দেওয়া হবে না তাদের।
তিনি বলেন, যদি কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টার লাগানো হয় তাহলে ছিঁড়ে ফেলতে হবে। যদি আপনারা না পারেন আমাকে বলবেন আমি ব্যবস্থা নেব। তাদের কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।
লোহাগাছিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনসম্মুখে এমন বক্তব্য সাধারণ ভোটাদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নির্বাচন অবাধ-নিরেপক্ষ সুষ্ঠ হওয়া নিয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ ইউনিয়ইে সংসদ সদস্যের বাড়ি। নিজস্ব এলাকায় নৌকার প্রার্থীর এমন বক্তব্যে এমপিকেও মানুষের সামনে বেকায়দায় পড়তে হবে। এতে সাধারণ ভোটাররা নৌকায় ভোট দিতে আগ্রহ হারাবে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থীত নৌকার প্রার্থী নুরুল হক আকন্দের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আবেগের কারণে হয়ে গেছে। অসর্তকতায় মুখ স্লিপ করে এমনি বলে ফেলেছি। আসলে এমনটি বলার কথা ছিল না। ভুলে এটি হয়ে গেছে। আপনারা অন্যভাবে নিয়েন না প্লিজ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাঈদ আকন্দ জানান, ভাইরাল হওয়া বক্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি চাপে রয়েছি। এরই মধ্যে আমার একাধিক নেতাকর্মীকে নৌকার প্রার্থীর লোকজন মারধর করেছে। হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে। আমাদের নিরীহ কর্মী-সমর্থকরা চরম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে।
তিনি বলেন ,এ সব হুমকি-অনিপাত্তার কথা জানিয়ে জেলা প্রসাশক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। অবাধ-নিরেপক্ষ সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ থাকলে নৌকার প্রার্থী আমার তিন ভাগের এক ভাগ ভোট পাবে। জামানতও হারাতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আল নোমান দেশ রূপান্তরকে জানান, এমন একটি বক্তব্যের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা ওই প্রার্থীকে কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ দিয়েছি।
তিনি বলেন, নির্বাচনবিধির ১৮ ধারা তিনি লঙ্ঘন করেছেন। উপযুক্ত জবাব না পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
