যাত্রীর ফেলে যাওয়া দেড় লাখ টাকা ফেরত দিল রিকশাচালক

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১৮ এএম

দরিদ্র পরিবারে জন্ম। অভাবকে সঙ্গী করেই বেড়ে ওঠা। ১৭ বছরের কিশোর শাহীন তাই কয়েক বছর আগেই কাঁধে তুলে নিয়েছে পরিবারের দায়িত্ব। তবে অর্থনৈতিক চাপে সততা আর নৈতিকতাকে বিকিয়ে দেয়নি অন্যদের প্রতিও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠা শাহীন। গতকাল মঙ্গলবার রিকশাচালক শাহীন তার সততার অন্য নজির স্থাপন করেছে। তার রিকশায় ফেলে যাওয়া এক যাত্রীর ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে। এ জন্য কোনো পুরস্কারও নেয়নি শাহীন। তার ভাষ্য, টাকাটা মালিককে ফিরিয়ে দেওয়াটাই তার কর্তব্য ছিল।

শাহীন ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউরা উপজেলার কামালপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। বেশ কয়েক বছর ধরে তারা কাপাসিয়া সদর এলাকায় থাকে। সেখানেই রিকশার প্যাডেল মেরে দিন-রাত হয় শাহীনের। গতকালও বাজার থেকে এক যাত্রীকে নিয়ে পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যায় শাহীন। ওই যাত্রী নেমে গেলে সোজা চলে যায় নিজেদের ভাড়া বাসার দিকে। কিন্তু বাসার কাছে গিয়ে রিকশায় একটি পলিথিনে মোড়া কিছু একটা দেখতে পায় সে। পরে খুলে দেখে তার মধ্যে অনেক টাকা। তাৎক্ষণিকভাবে সে ছুটে আসে বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। টাকা হারিয়ে সেখানেই বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলেন টাকার মালিক মুদিদোকানি মুজিবুর রহমান। স্থানীয়দের চেষ্টায় তার জ্ঞান ফিরলে টাকাটা বুঝিয়ে দেয় শাহীন। সে সময় মুজিবুরসহ উপস্থিত অনেকেই বুকে জড়িয়ে নেন শাহীনকে। মুজিবুর রহমান পুরস্কার হিসেবে তাকে দিতে চান কিছু টাকা। কিন্তু শাহীন তা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সে কবল তার দায়িত্ব পালন করেছে। তাই টাকা সে নিতে পারবে না।

মুজিবুর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে রিকশা দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়ি সদর ইউনিয়নের কান্দানিয়ায় যাচ্ছিলেন। কিছুদূর গিয়ে জামার পকেটে রাখা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। দিশেহারা অবস্থায় রিকশা থেকে নেমে দৌড়ে ফিরে আসেন কাপাসিয়া বাজারে। কিন্তু টাকা খুঁজে না পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। স্থানীয়রা মাথায় পানি ঢালার পর জ্ঞান ফেরে তার। তখনই তার হাতে টাকার ব্যাগটি বুঝিয়ে দেয় শাহীন। 

শাহীন জানায়, ভাড়া বাসার কাছাকাছি গিয়ে রিকশায় পড়ে থাকা পলিথিনে মোড়ানো টাকার বান্ডিল দেখতে পেয়েই ওই যাত্রীর খোঁজে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে সে। পুরস্কারের টাকা নিতে অনীহার বিষয়ে শাহীন বলে, ‘টাকাটা মালিককে ফিরিয়ে দেওয়াটাই আমার কর্তব্য। এর বিনিময়ে আমি কোনো কিছুই চাই না।’ শাহীনের ভাষ্য, এ ঘটনায় বাবা-মা খুব খুশি হয়েছেন, সেটাই তার পুরস্কার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত