২৫ স্থানে থামবে ‘নগর পরিবহন’

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:০৯ এএম

নগরবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে আগামী ২৬ ডিসেম্বর। ওইদিন থেকে প্রাথমিকভাবে ৫০টি বাস দিয়ে ঢাকা নগর পরিবহন চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার পথে ২৫টি স্থানে নগর পরিবহনের বাস থামবে। রাস্তার উভয় পাশেই যাত্রী ওঠা-নামার স্থান নির্ধারণ করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। কিন্তু এসব স্থানের যাত্রী ছাউনি এখনো প্রস্তুত হয়নি। অনেকগুলো ছাউনি পুরনো ও ভাঙাচোরা। কোথাও ভ্রাম্যমাণ দোকান, কোথাও ভরঘুরেদের আশ্রয়স্থল হয়ে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ডিটিসিএর সেই তালিকা অনুযায়ী সরেজমিনে ২৫টি স্টপেজ ঘুরে দেখা যায় যাত্রী ছাউনিগুলোর বেহাল দশা। ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর যেতে রাজধানীর রমনায় পার্কের সামনে যে যাত্রী ছাউনির দেখা গেল সেখানে ভ্রাম্যমাণ সেলুন। এক মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি তার চুল কাটাচ্ছেন। কাঁচপুর থেকে বাস ছেড়ে এসে রমনার কোথায় থামবে এমন কোনো স্থান নির্দিষ্ট করা হয়নি। মৎস্য ভবনের দক্ষিণে যে স্টপেজ চোখে পড়ল সেটা ভবঘুরেদের আশ্রয়স্থল আর জরাজীর্ণ। এছাড়া প্রেস ক্লাবের উভয় পাশে গিয়ে কোনো ছাউনি বা নির্ধারিত স্থান চোখে পড়েনি।

দৈনিক বাংলা মোড়ে (দক্ষিণে) গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। তবে একটি সাইনবোর্ড আছে যেখানে লেখা আছে বাস থামবে। অন্যপাশে কোনো নির্দিষ্ট স্থান চোখে পড়েনি। মতিঝিল শাপলা চত্বরের যাত্রী ছাউনিতে ভাসমান দোকান। নটর ডেম কলেজের সামনে যাত্রী ছাউনি থাকলেও সেটি ভাঙাচোরা। হিরাঝিলের সামনে একটি যাত্রী ছাউনি চোখে পড়ে যা নতুন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সেটার কাজ শেষ হয়নি। টিকাটুলিতে পূর্ব পাশে যে ছাউনি সেটিও ছিল অপরিষ্কার এবং ভাঙাচোরা। সায়েদাবাদে রয়েছে শুধু একটি সাইনবোর্ড, যার নিচে চায়ের দোকান। জনপথ মোড়ের যাত্রী ছাউনির সামনে দেখা যায় ময়লার স্তূপ। যাত্রাবাড়ী থানা সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির সামনে ট্রাক রাখা। শনির আখড়ায় একপাশে কোনো স্টপেজ দেখা গেল না। অন্যপাশে যে ছাত্রী ছাউনি সেটা পুরনো, বসার জায়গা নেই। রায়েরবাগের উভয় পাশেই কোনো নির্দিষ্ট স্থান চোখে পড়েনি। মাতুয়াইলের উত্তর পাশে যাত্রী ছাউনি নেই। অবশ্য সড়কের পাশে বাস থামার জন্য জায়গা আছে। সেটা হকারদের দখলে। এ ছাড়া সাইনবোর্ড মৌচাক চিটাগাং রোড এলাকাগুলো ঘুরে কোনো নির্দিষ্ট স্থান চোখে পড়েনি।

গত ১৯ ডিসেম্বর বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সভায় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, ‘এই যাত্রাপথে সব যাত্রী ছাউনি নির্মাণ এবং বাস বে নির্মাণ কার্যক্রম চলছে। ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২৬ ডিসেম্বরের আগেই শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।

যাত্রী ছাউনির বিষয়ে জানতে চাইলে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প পরিচালক ধ্রুব আলম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দক্ষিণের উভয় পাশ মিলিয়ে প্রায় ১০টি যাত্রী ছাউনি রয়েছে, যেগুলোতে কাজ হয়নি। ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে।’

প্রকল্প পরিচালক জানান, বাসচালকদের আজ শুক্রবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রত্যেকটা বাস স্টপেজে নির্ধারিত ব্যক্তি থাকবে যারা ই-টিকেট বিক্রি করবে। এ ছাড়া বেসরকারি কোম্পানির বাস ও চালকদের পোশাকের রঙ হবে সবুজ। বিআরটিসি বাস আগে থেকেই লাল রঙের। সেই রঙই থাকবে। এসব বাসের চালকদের পোশাকের রঙ হবে নীল। তিনি আরও জানান, মেট্রোরেলের কাজ যেখানে হচ্ছে সেখানে এখন বাস থামবে না।

বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির সদস্য ও গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘পুরনো যাত্রী ছাউনি পরিবর্তনে সময় লাগছে; তবে পরিবর্তন হয়ে যাবে। নির্ধারিত স্থানেই গাড়িগুলো থামবে। কমিটি কাজ করছে।’

ই-টিকেটিং থাকছে কিনা জানতে চাইলে সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘এখন শীতকাল, বৃষ্টি নেই তো। চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে কাজ করবে লোকজন। মেশিন থাকবে, লোক থাকবে। টাকা দিলেই ই-টিকেট পেয়ে যাবে।’ 

২৫ স্টপেজ : ঘাটারচর, ওয়াশপুর, বসিলা ব্রিজ, মোহাম্মদপুর (বসিলা রোড), মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড (কনফিডেন্স টাওয়ারের বিপরীত পাশে), শংকর পূর্ব, ধানম-ি ১৫ (পুরনো) কাকলী স্কুল, জিগাতলা, সিটি কলেজ (পপুলার ভবন-২-এর বিপরীতে), সায়েন্সল্যাব (বিসিএসআইআর) গেট, শাহবাগ, রমনা পার্ক, প্রেস ক্লাব, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল শাপলা চত্বর, মতিঝিল নটর ডেম কলেজ, মতিঝিল হিরাঝিল, টিকাটুলি, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী থানা সংলগ্ন বিটিসিএলের সামনে, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড, মৌচাক, চিটাগাং রোড।’ এসব স্থানের উভয় পাশেই বাসে যাত্রী ওঠা-নামার ব্যবস্থা থাকবে।

প্রসঙ্গ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে গত ১ এপ্রিল রুটভিত্তিক কোম্পানির অধীনে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল শুরুর কথা ছিল। পরে সেটি পিছিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। পরে আবার পিছিয়ে ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। চতুর্থ দফায় নির্ধারিত তারিখ আসছে ২৬ ডিসেম্বর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত