ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইজিপির বৈঠক

পুলিশকে ইউপি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:২৯ এএম

জনপরিসরে বেফাঁস কথা না বলার জন্য পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক ব্যবহার করার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করা যাবে না। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন বাহিনীর প্রধান। গত বুধবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে অনলাইনে বাহিনীর সবকটি রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), নগর পুলিশের কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। এই সময় পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, চতুর্থ ধাপে ৮৩৮টি ইউপিতে ভোট হবে। পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে, ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে রাজনৈতিক অঙ্গন। একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ওই মহলটি পুলিশকেও ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী আনার চেষ্টা করছে কতিপয় প্রার্থী। এসব তথ্য পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েক দফা বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা কয়েক পুলিশ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইজিপি নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা ভালোভাবে সম্পন্ন করায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আসন্ন সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগও যাতে ভালোভাবে হয় সেই জন্য কিছু দিকনির্দেশনা দেন তিনি। সামনের ইউপি নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয় সেই জন্য পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের ভূমিকা যাতে নিরপেক্ষ থাকে সেই দিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়। জঙ্গি তৎপরতা যেন কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেই জন্য সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। জঙ্গি তৎপরতা রোধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন ও ব্লক রেইড পরিচালনা করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে আগন্তুক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়মিত মনিটর করতে হবে। নির্দেশনা না মেনে কেউ ফেইসবুক ব্যবহার করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ফেইসবুকের আইডি ধরে মনিটরিং করা হবে। ইউপি নির্বাচনে সন্ত্রাসীরা যাতে অবাধে চলাফেরা করতে না পারে সেইদিকে তীক্ষè দৃষ্টি রাখতে হবে। নির্বাচনী এলাকায় অপরিচিত কাউকে দেখলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যদের নানা রকমের মন্তব্য প্রচার হয়। এতে পুলিশ বেশ বিব্রত হয়।  এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য আইজিপি নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনটি জেলার পুলিশ সুপার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্প্রতি কুমিল্লার দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের কিছু মন্তব্য নিয়ে পুলিশ বিব্রত হয়। যদিও তিনি সত্য কথাগুলোই বলেছেন। তারপরও প্রকাশ্য এইভাবে কথা না বলাই ভালো। আইজিপি তার বক্তব্য ধরেই পুলিশকে বলেছেন, বেফাঁস কথাবার্তা বললে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ব্যাপার সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়।

জানা গেছে, বেফাঁস কথা বলায় দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল রানাকে সম্প্রতি সিলেটের ৭ম এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে। ১০ মাস আগে তিনি কুমিল্লায় যোগদান করেছিলেন। কিছুদিন আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ইউপি নির্বাচনে ভোট ইস্যুতে তার একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়। ওই সময় জুয়েল রানা বলেছিলেন, ‘আপনি নৌকার প্রার্থী হয়েছেন বলেই চেয়ারম্যান হয়ে যাবেন বিষয়টি এমন না। আমি যেখানে ডিউটি করেছি নৌকা পেয়েছে ২৫১ ভোট। কিন্তু নৌকার প্রার্থী বলতে পারেননি ভোট সুষ্ঠু হয়নি। শুধু নৌকা নিয়ে এলেই, টাকা-পয়সা থাকলেই, বড় বড় নেতার আত্মীয়স্বজন হলে নির্বাচনে জয়লাভ করা যাবে না।’ ভোটকেন্দ্র অনেকে দখল করতে আসেন, চোর ধর্মের কথা শোনে না। কুত্তার লেজ সোজা হয় না। আমাদের অস্ত্র রেডি আছে, প্রশিক্ষণ আছে, সরকার গুলি দিছে। অর্ডার আছে। আইন লঙ্ঘন হচ্ছে। আমরা কি বসে থেকে ফিডার খাব? গুলি করব, হাত-পা যদি দু-চারজনের উড়ে যায়, আমাদের কারও কাছে জবাবদিহি করতে হবে না।’

সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েলের এই বক্তব্যে সরকারের হাইকমান্ড নাখোশ হয় বলে জানান পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জুয়েল রানা নির্বাচনের স্বার্থে কথাগুলো বলেছিলেন। কিন্তু এইভাবে তার বলা ঠিক হয়নি। এই জন্য পুলিশের সবাইকে সতর্কভাবে কথা বলতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত