দেশের প্রথম স্মার্ট সিটি ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৪ এএম

রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায় ১৩৪ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক আবাসন প্রকল্প ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’, যেটি দেশের প্রথম স্মার্ট সিটি। সবুজায়ন এই প্রকল্পটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি নিশ্চিত করা হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নাগরিক সেবা। রূপায়ণ সিটি উত্তরা রিহ্যাব ফেয়ারে প্যাভিলিয়ন এবং ডায়মন্ড স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় গ্রাহকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে প্রকল্পটি ঘিরে। গতকাল শনিবার পুরো প্রকল্পের বিষয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির হেড অব সেলস রেজাউল হক লিমনের সঙ্গে। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায় রূপায়ণ সিটির আদ্যোপান্ত।

১২০ ফুট প্রশস্ত ঝকঝকে তকতকে সড়ক। তার দুই পাশ ও মাঝের সড়কদ্বীপে পাম, খেজুরসহ নানা প্রজাতির গাছ। ফুটপাতে গাছের নিচে সময় কাটানোর জন্য আছে বসার জায়গা। সড়কবাতিগুলোও বেশ দৃষ্টিনন্দন। মনোরম এই পরিবেশেই গড়ে উঠছে সারি সারি ভবন। প্রতিটি ভবনের নকশাও আবার একই রকম। ভবনের সামনে-পেছনে খোলা জায়গা থাকায় অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর থেকেই আকাশ দেখার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস।

রাজধানী ঢাকার উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের শেষ মাথায় ১৩৪ বিঘা জমির ওপর এমনই এক আধুনিক শহর গড়ে তুলছে রূপায়ণ গ্রুপ। রূপায়ণ সিটি উত্তরা নামের এই প্রকল্পে স্কুল, খেলার মাঠ, মসজিদ, ব্যায়ামাগার, সুপার শপ, শপিং মল, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চার তারকা মানের হোটেলসহ সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। তারপরও পুরো প্রকল্পের ৬৩ শতাংশ জায়গাই খোলা, মানে সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা থাকবে না। তার মধ্যে ৪১ শতাংশে থাকবে সবুজ গাছপালা। প্রকল্পের ভেতরে সব মিলিয়ে থাকছে সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক। সেই সড়ক কিংবা ফুটপাত দিয়েই সকাল বা বিকেলের জগিংটা করে নেওয়া যাবে সহজেই।

রূপায়ণ সিটি উত্তরায় চারটি ফেজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি আবাসিক ও একটি বাণিজ্যিক প্রকল্প। আবাসিকের মধ্যে দুটি ফেজে গ্র্যান্ড ও ম্যাজিস্টিক নামে প্রিমিয়াম মানের কনডোমিনিয়াম করা হচ্ছে। অন্যটি স্কাই ভিলা, যা মূলত দ্বিতল অ্যাপার্টমেন্ট। সব কটি ভবনই একটি বেসমেন্টসহ নয়তলা হবে।

স্কাই ভিলার ভবনগুলো ইতিমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে। স্কাই ভিলার ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন এক জলাধার। শৈল্পিক এই স্থাপনার মাঝখানে রয়েছে গাছ। এক পাশে বসে আড্ডা দেওয়ার জায়গাও আছে। প্রশস্ত বারান্দার মেঝেতে ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে আকাশে মেঘের ওড়াউড়ি দেখা যাবে। আরেক পাশের বারান্দায় দাঁড়ালেই চোখে পড়বে সেই জলাধার। ভিলার প্রথম তলায় ডাইনিং, ড্রয়িং এবং কিচেন রুমের পাশাপাশি একটি শয়নকক্ষ রয়েছে। সিঁড়ি  বেয়ে ওপরে উঠলেই আরও কয়েকটি শয়নকক্ষ।

রূপায়ণ সিটি উত্তরার সব বাসিন্দার জন্য একটি কমিউনিটি ক্লাব ভবন করা হয়েছে। সেখানকার ছাদে সুইমিং পুল থাকবে। তা ছাড়া অতিথিদের রাতযাপনের জন্য আবাসন, ব্যায়ামাগার, ইনডোর গেমস এবং একবারে দুই হাজার মানুষ নিয়ে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য হল থাকবে। আর পুরো শহরের ব্যবস্থাপনা রূপায়ণ নিজেরাই করবে।

সবুজ শহরটি পরিপূর্ণ করতে ৩০ বিঘা জমির ওপর চারটি বেসমেন্ট ছাড়াও ১০তলা মাল্টি কমার্শিয়াল ভবন করছে রূপায়ণ গ্রুপ। ম্যাক্সাস নামের ভবনের আটটি টাওয়ারের সাতটিতে থাকবে হেলিপ্যাড।

প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট জায়গায় থাকবে অত্যাধুনিক এক্সপেরিয়েন্স মল, ফুডকোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। মাল্টি কমার্শিয়াল এই ভবনের পাইলিং অনেকদূর এগিয়েছে।

পরিকল্পিত শহর করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, একক ভবনের প্রকল্পে থাকার জায়গার সমাধান দেওয়া যায়; তবে অন্যান্য প্রয়োজনীয়  যেসব সেবা দরকার, তা দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই আমরা মানুষের জীবন ও জীবিকার মান উন্নয়নের চিন্তাভাবনা থেকে পরিকল্পিত সবুজ শহর করার স্বপ্ন দেখেছি, যা বর্তমানে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। এখানে ফ্ল্যাট কেনা মানে শহর কেনা।

রূপায়ণের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল বলেন, আবাসন খাতে রূপায়ণ শুরু থেকেই নতুন কিছু দেওয়ার চেষ্টা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত