শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করে বোনের মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছেÑএমন অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর এক ব্যক্তি। গত শনিবার উপজেলার কালারমার ছড়ার চিকনীপাড়ার মো. শুক্কুর আলী ফেইসবুকে বোন মায়মুনার ন্যাড়া মাথার একটি ছবি পোস্ট করে প্রশাসনের সহযোগিতা চান। সে দিন তিনি মহেশখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। তবে মায়মুনার শ্বশুরবাড়ির প্রতিবেশীদের ভাষ্য, মাঝেমধ্যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও দুই সপ্তাহ আগে নিজেই মাথা ন্যাড়া করেছেন ওই নারী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চার বছর আগে উপজেলার কালারমার ছড়ার নয়া পাড়ার মো. ছিদ্দীকের ছেলে বাহার উদ্দিনের সঙ্গে চিকনীপাড়ার মৃত জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়মুনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর বেশ কয়েকবার পারিবারিক কলহের ঘটনাও ঘটেছে। মাসখানেক আগেও জ্বালানি ও চিকিৎসা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়। তখন স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দরিদ্রতার কারণে তাদের মাঝেমধ্যেই কলহ হতো। আগেও ওই গৃহবধূ একাধিকবার আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এবারের বিষয়টি ঠিক কী ঘটেছে জানা নেই। ফেইসবুকে ছবি ছড়িয়েছে বলে শুনেছি।’
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রী প্রায় ঝগড়া করত। তবে কিছু দিন আগে টিউবওয়েল বসানোর কাজ করার সময় মায়মুনার স্বামী বাহার উদ্দিন আহত হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বামীর দুর্ঘটনার দুই দিন পরেই গত ১০ ডিসেম্বর বিকেলে মায়মুনা নিজেই মাথা ন্যাড়া করেন।
খাদিজা বেগম ও আসিছায় বেগম নামে মায়মুনার দুই প্রতিবেশী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে অশান্তি ছিল। বাহারের বাড়ির লোকজনও মায়মুনার সঙ্গে খারাপ আচরণ করত। তবে তারা যতটুকু জানেন, চুল মায়মুনা নিজেই কেটেছেন।
মায়মুনার ভাশুর আবু বক্করও দাবি করেন, নিজের মাথা নিজেই ন্যাড়া করেছেন মায়মুনা। সেই ভিডিও তাদের কাছে আছে। তাকে গৃহবন্দি করা হয়নি।
এদিকে মায়মুনা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায় নির্যাতন করে। সম্প্রীতি আমার শরীরে টিউমার ধরা পড়ে। কয়েক মাস ধরে চিকিৎসার জন্য বললেও সে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে মাথায় দেওয়ার জন্য নারিকেল তেল আনতে বলায় আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে।’ তবে মাথা ন্যাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো জবাব দেননি তিনি। বারবার বলেছেন, শ্বশুরবাড়ির লোক তাকে প্রায়ই নির্যাতন করে।
মহেশখালী থানার ওসি আব্দুল হাই বলেন, ‘এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েছে। এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। প্রাথমিক তদন্তের পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
