নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে এ নিয়োগ দেন। তিনি হলেন দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি।
এদিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর ছুটিতে যাওয়ার খবর আসে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে এ তথ্য জানালেও তিনি কত দিনের ছুটিতে গেছেন সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
গতকাল সন্ধ্যায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। মন্ত্রণালয়ের সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। উক্ত নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ হতে কার্যকর হবে।’
আজ শুক্রবার নতুন প্রধান বিচারপতি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেবেন বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চ আদালতের বিচারপতিরা ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের বিচারিক দায়িত্বে থাকতে পারেন। দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গতকাল ৩০ ডিসেম্বর তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান তিনি। সরকারি ছুটিতে বন্ধ থাকা এবং ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ থাকায় গত ১৫ ডিসেম্বর তার শেষ বিচারিক কর্মদিবসে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়।
নতুন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীসহ এখন আপিল বিভাগে দায়িত্বে রয়েছেন আরও তিনজন বিচারক। তারা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার রমানাথপুর গ্রামে ১৯৫৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ১৯৭২ সালে মাধ্যমিক, ১৯৭৪ সালে আইএসসি, পরে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন তিনি। এরপর আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ধানম-ি ল কলেজ থেকে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হয়ে ১৯৮১ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় যোগ দেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০০১ সালে হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। এরপর ২০০৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন। এরপর ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন তিনি। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকী ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। গত ২৮ জুলাই বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী অবসরে যান।
