নিরিবিলি অবসর কাটাবেন বিদায়ী প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৩৯ এএম

উচ্চ আদালতে ২০ বছরের বেশি সময় এবং প্রধান বিচারপতি হিসেবে ৪৭ মাস বিচারিক দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার শেষ কর্মদিবস। বিদায়ী দিনে তিনি বলেছেন, ‘আমি অবসর জীবন একদম সেক্লুডেড (নিরিবিলি) কাটাব। সাংবাদিকদের মিস করব। তবে কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেব না।’

সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের নিচতলায় (রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস সংলগ্ন) মুক্তিযুদ্ধ কর্নার উদ্বোধন শেষে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

নানা নাটকীয়তার মধ্যে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা। এরপর ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী উচ্চ আদালতের কোনো বিচারকের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হলে তিনি অবসরে যান। গতকাল ৩০ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় অবসরে গেলেন তিনি। সরকারি ছুটিতে বন্ধ থাকা এবং ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ থাকায় গত ১৫ ডিসেম্বর তার শেষ বিচারিক কর্মদিবসে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়।

অবসর জীবন কীভাবে কাটাবেন এমন প্রশ্নে হাস্যোজ্জ্বল কণ্ঠে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি কিন্তু এখনো (গতকাল পর্যন্ত) প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বে আছি। আমার কথা বলা ঠিক হবে না।’ পরে সাংবাদিকদের অনুরোধে কিছু কথা বলেন তিনি।

‘আদালতে যা দেখবেন তাই লিখবেন’ আগের দেওয়া এই বক্তব্যটি স্মরণ করিয়ে দিলে হাস্যোজ্জ্বল বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রসিকতাচ্ছলে বলেন, ‘আপনারা আমার সময়ে এত বেশি লিখেছেন যে, আমি অনেক দিন রাতে ঘুমাতে পারিনি। আমি মনে করেছি যে আপনারা হয়তো আমাকে আপন মনে করে একটু বেশিই লিখেছেন। তবে, এটাতে আমি মাইন্ড করিনি। আমার যেটা সেটা আমি অনুভব করেছি।’ সাংবাদিকদের মিস করবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। আমার সাংবাদিকতার কার্ড ছিল। আমি তো অবশ্যই সাংবাদিকদের মিস করব।’   

এর আগে মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের লাইব্রেরি উদ্বোধন শেষে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘এখানে মুক্তিযুদ্ধের ওপর অনেক বই আছে। বিচারপতি যারা আসবেন মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তাদের ভালো জ্ঞান থাকা দরকার। অনেক রায়ের মধ্যে হয়তো মুক্তিযুদ্ধের বিষয় লিখতে হবে। সুতরাং এই লাইব্রেরি বিচারপতিদের রায় লেখার কাজে ভীষণ সহায়ক হবে। কারণ এখানে এমন সব বই রাখা হয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক কোনো রায় যখন হবে তখন বিচারপতিরা তা লিখতে পারবেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বেশ কয়েকজন বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত