বরগুনা পৌর শহরে এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে মো. আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নুরুল ইসলাম বরগুনা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গতকাল সকালে বাবা-ছেলেকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাবা-ছেলের ধর্ষণের শিকার হয়ে মেয়েটি বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বরগুনা পৌরসভার পশ্চিম বরগুনা এলাকার বাসিন্দা ও মামলার বাদী বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। দুই বেলা দুই মুঠো ভাত খাইয়া বাইচ্চা থাকার লাই¹া বরগুনার হাটে প্রতিদিন সবজি বিক্রি করি। মাইয়াডা একাই বাসায় থাকত। নুরুল ইসলামেরও আমার মেয়ের বয়সী একটি মেয়ে আছে। ওই মেয়ের সঙ্গে আমার মেয়ে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যেত। কিছুদিন মেয়ের পেট বড় হতে দেখে শাসন করলে সব জানায় সে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাসায় যাওয়ার সুযোগ নিয়ে আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে নুরুল। তার পোয়াডায়ও আমার মেয়ের সর্বনাশ করছে। মুই ওগো বাপ-বেটার কঠোর সাজা চাই।’
ধর্ষণের শিকার কিশোরী জানায়, নুরুল ইসলামকে সে খালু ডাকত। বাসায় গেলে আদর করত, মাঝেমধ্যে ভালো খাবার দিত। একপর্যায়ে বিয়ের কথা বলে মেলামেশা করে। আরিফ ভাইও একদিন তাকে জড়িয়ে ধরে বলে, তোর ও বাবার কুকর্মের কথা আমি জানি। সবার কাছে এসব বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সেও বেশ কয়েক দিন ধর্ষণ করেছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার পেতে সম্প্রতি মেয়েকে নিয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে যান মামলার বাদী। লিখিত অভিযোগ দিলে জেলা প্রশাসক বরগুনা সদর থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। গত রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে নুরুল ইসলামকে থানায় ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তার ছেলে আরিফকেও এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে কিশোরীর মা দুজনের নামে মামলা করলে গতকাল তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
সদর থানার ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের সঙ্গে বাবা-ছেলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মেয়েটির মা মামলা করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
