চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজ কক্ষ থেকে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের বিপরীতে এস আলম কটেজ থেকে অনিক চাকমা (২২) নামে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সহপাঠী ও কটেজ বাসিন্দাদের ভাষ্য, আর্থিকভাবে অসচ্ছলতার কারণে তিনি সব সময় হতাশায় ভুগতেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ‘সুইসাইড নোটে’ও আর্থিক অসচ্ছলতায় কারণে হতাশায় ভোগার কথা উল্লেখ আছে। তবে নোটটি অনিকেরই লেখা কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বালুকাখী ইউনিয়নের কাবুইক্কা গ্রামের মোহন লাল চামকার ছেলে। তিনি এস আলম কটেজের ২১২ নম্বর কক্ষে থাকতেন। আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে তার দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ আবু তৈয়ব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ আমরা পেয়েছি। শেষ রাতের দিকেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি।’
এস আলম কটেজের মালিক মো. শাহ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে অনিক কটেজটিতে অবস্থান করছেন। রবিবার সন্ধ্যায়ও তার সঙ্গে আমার কথা হয়। তখন তিনি হাসিমুখেই আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। কোনো অস্বাভাবিক আচরণ দেখিনি।’
ওই কটেজের বাসিন্দা রিপন চাকমা বলেন, ‘অনিক প্রতিদিন সকাল ৮-৯টার দিকে ঘুম থেকে উঠলেও আজ (সোমবার) সাড়ে ১০টার দিকে আমরা তাকে ডাকাডাকি শুরু করি। কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি। পরে বিভাগের এক শিক্ষককে জানাই। তিনিই প্রক্টর অফিসে খবর দেন।’
অনিকের বিভাগের সহপাঠী স্মরণ রাজবংশী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনিক সবার সঙ্গে মিশত না। তার পারিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল বলে জানতাম। তার অনেক দেনাও হয়েছিল। সেগুলো পরিশোধ করতে পারেনি। এসব নিয়ে সে বিষন্নতায় ভুগত।’
যদিও তার বাবার দাবি, তিনি ছেলেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাঠাতেন। ধার-দেনার বিষয়েও সে কখনো কিছু বলেনি। মোহন লাল বলেন, ‘সে খুব ভালো ছেলে ছিল। আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার কথা না। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।’
এদিকে অনিকের রুমে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে ‘আত্মহত্যার’ কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও তিনি ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বোঝা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে চিরকুটে তিনি ‘সত্য কথা বলার কারণে নানা সময় সমস্যায় পড়েছেন’ এবং ‘আর্থিকভাবে অসচ্ছলতায় হতাশায় ভুগতেন’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও চিরকুটটি তারই লেখা কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বলেন, ‘হত্যা না আত্মহত্যা সেটা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা আত্মহত্যা বলে ধরে নিচ্ছি। তার রুমে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ বলা যাবে।’
