দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ৭৫ বছরে পা রাখল আজ ৪ জানুয়ারি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতৃত্বের দুর্বলতায় গৌরবোজ্জ্বল ছাত্রলীগের আগে অর্জিত সুনাম শুধু ধ্বংসই হচ্ছে। নতুন অর্জন নেই বললেই চলে। প্রায়ই নেতিবাচক বিভিন্ন খবরের শিরোনাম হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ। এমনকি খোদ নিজ সংগঠনেরই নেতাকর্মীদের বিস্তর অভিযোগে অভিযুক্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এই ছাত্র সংগঠনের বর্তমান দুই শীর্ষ নেতা সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।
দায়িত্ব পালনের প্রায় আড়াই বছরে সংগঠনের সব দায়দায়িত্ব কুক্ষিগত করে রাখা, নেতাকর্মী-সমর্থকদের সময় না দেওয়া, সাংগঠনিক কার্যক্রমের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নিয়মিত না আসা, নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোনে কল করলে না পাওয়া, ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠন পরিচালনা না করা, নিয়মিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভা না করা, কমিটির অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কমিটি ঘোষণা করা, সংগঠনের নেতাদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ না দেওয়া এবং নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থহানি হলেই যেকোনো কমিটি ভেঙে দেওয়াসহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে জয়-লেখকের বিরুদ্ধে। দুই নেতার বিরুদ্ধে সময়মতো সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে না পারার অভিযোগও রয়েছে ভূরি ভূরি। সব মিলিয়ে অনেকটাই ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম প্রধান ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
সংগঠনটির সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলছেন, নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ইচ্ছে করেই ছাত্রলীগকে ছত্রভঙ্গ সংগঠনে পরিণত করে রেখেছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। তাদের বিরুদ্ধে পদবাণিজ্যের মতো ঘোরতর অভিযোগও আছে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের।
২০১৮ সালের ১১-১২ মে ২৯তম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। নেতা হওয়ার এক বছরের মাথায় বিতর্কের জন্ম দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় শোভন-রাব্বানীকে। ওই কমিটির এক নম্বর সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পান ২০১৯ সালের মে মাসে। পরের বছর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ভারমুক্ত হয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পূর্ণ দায়িত্ব পান তারা দুজন। কিন্তু বিতর্কমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এ দুই শীর্ষ নেতাও। অভিযোগ আছে, অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে শোভন-রাব্বানীকেও ছাড়িয়ে গেছেন জয়-লেখক।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংগঠন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাচারিতা, কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের জোরালো অভিযোগ রয়েছে জয়-লেখকের বিরুদ্ধে। সিলেট মহানগর ও জেলা, ময়মনসিংহ জেলা, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এবং কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে ব্যাপক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আছে দুজনের বিরুদ্ধে। এছাড়া গাজীপুর জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে আর্থিক লেনদেনের ঘোরতর অভিযোগ ব্যাপক আলোচনায় চলে আসায় ওই দুটি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি তারা।’
জয়-লেখক সংগঠনের গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা মানছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যতটা উৎফুল্ল থাকার কথা, আদতে তার সিকিভাগও নেই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি কী সেটাও এখন পর্যন্ত অনেক কেন্দ্রীয় নেতার অজানা। একটি গঠনতন্ত্র মোতাবেক যেকোনো সংগঠন পরিচালিত হয়। গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানে না জয়-লেখক।’
নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য স্বজনপ্রীতি ও নিজস্ব বলয় গড়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পরিচালনা করছেন অভিযোগ তুলে আরিফ আরও বলেন, ‘তাদের সঙ্গে (জয়-লেখক) আমরা সংগঠনের অন্য নেতারা আলাপ-আলোচনা করার কোনো সুযোগই পাই না। অতীতে কখনোই এ সংগঠনের অবস্থা এত লেজেগোবরে ছিল না। দুই বছর মেয়াদি কমিটি চলছে চার বছরে। অধিকাংশ জেলা ইউনিট ছয়-সাত বছরের পুরনো। ইউনিট কমিটি গঠন করার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই জয়-লেখকের। অল্প কিছু ইউনিট কমিটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে দিলেও সেগুলো নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এখন নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। এর ফলে ছাত্রলীগের কমিটিতে মাদক, হত্যা মামলার আসামি এবং ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটার সুযোগ হয়েছে।’
জয়-লেখকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ সংগঠন হিসেবে তার দীর্ঘ ঐতিহ্যকে ক্ষুণœ করছে দাবি করে কেন্দ্রীয় এই সহসভাপতি বলেন, ‘নির্বাহী সংসদের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে ছাত্রলীগ বারবার খারাপ সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে। ঝিমিয়ে পড়ছে সংগঠনের কার্যক্রম। স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের যে কর্মযজ্ঞ তারা করছেন, তা কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না।’
এদিকে জয় ও লেখকের মধ্যেও অনৈক্য-মনোমালিন্য চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এ মনোমালিন্যের সূত্রপাত সংগঠনের সাবেক নেতা বিপ্লব হাসান পলাশ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকাকে ঘিরে। এই বিপ্লব ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাছে জয়ের ভায়রা হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তার পরামর্শ ছাড়া জয় কিছুই করতে পারেন না। আর এটাই লেখকের রাগের কারণ। পলাশের কারণেই জয় সাংগঠনিক ইউনিট ভাঙতে যেমন বাধ্য হন, আবার সাংগঠনিক ইউনিট দিতেও বাধ্য হন। প্রায় দুই বছর আগে ঢাকার ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কাজী নজরুল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হয়। কিন্তু পলাশের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় কমিটি ঘোষণা করতে পারেননি জয়-লেখক। গত শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি অবশেষে দিতে পারলেও পলাশের নির্দেশনা মানতে গিয়ে অনেকটা অদক্ষ ছাত্রদের দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুজন সহসভাপতি ও দুজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ পর্যন্ত যত সাংগঠনিক কমিটি দেওয়া হয়েছে তার সবই রাজধানীর বাংলা মোটরের কোনো এক জায়গা থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। এ চার নেতার ভাষ্যমতে, ‘সভাপতি জয়ের ওপর ওহি নাজিল হয়, তারপর কমিটি বানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’
জানা গেছে, পলাশের বাসা বাংলা মোটর। ছাত্রলীগের ওই চার নেতা আরও বলেন, ‘ওহি নাজিলের মধ্য দিয়ে নেতা বানানো হয় বলে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেও প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বানানো নেতাদের কাউকে চেনা যায় না। প্রেস রিলিজ ও ওহি নাজিলের মধ্য দিয়ে কমিটি হয় বলে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতারা ছাত্রলীগে এসে আশ্রয় নেয়, পদ পায়। বিবাহিত, মাদক মামলায় অভিযুক্ত ও অরাজনৈতিক-অসাংগঠনিক এবং অছাত্ররা ছাত্র সংগঠনের নেতা হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে।’
জানা গেছে, সংগঠনের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনেরও। সনজিৎ ও সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাত্রনেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সনজিৎ চন্দ্র দাসের বাড়ি ময়মনসিংহে। ওই জেলার ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেন জয়-লেখক। কিন্তু সনজিতের বাড়ি ওই এলাকায় হলেও তার সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করেন জয়-লেখক। অথচ নিজ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের চেনেন না সনজিৎ নিজেই। এ নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটিগুলোও জয়-লেখকের উদাসীনতার কারণে করতে পারছেন না সনজিৎ-সাদ্দাম। তারা দুজন সংগঠন চাঙ্গা করতে হল কমিটি দিয়ে দিতে একাধিকবার পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও জয়-লেখকের অনাগ্রহে করা যাচ্ছে না তা।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়াই এখন জয়-লেখকের মূল লক্ষ্য। সাবেক দুই নেতা শোভন-রাব্বানী তাদের চেয়ে অনেকাংশে ভালো ছিল সাধারণ কর্মীদের মুখে মুখে এখন এমন কথা ঘুরছে।
এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান নেতৃত্বে ছাত্রলীগে যে কালিমা লেপন করা হয়েছে, এখান থেকে সংগঠনকে মুক্ত করতে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের কোনো বিকল্প নেই। আমরা প্রত্যাশা করি মাননীয় নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সম্মেলনের বিষয়ে শিগগিরই একটি নির্দেশনা দেবেন।’
ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষার জন্য ছাত্রলীগের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনকে জিম্মি করে রেখেছে বলে দাবি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সোহান খানের। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রাব্বানী থেকে ন্যূনতম শিক্ষা নেয়নি। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষার জন্য সংগঠনকে জিম্মি করেছে। যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে তলানিতে নিয়ে ঠেকিয়েছে।’
সংগঠনের আরেক সহসভাপতি মাজহার শামীমের দাবি, বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠন পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ দিয়েছেন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ না করে সংগঠনকে শুধু প্রেস রিলিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।’
জয়-লেখকের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরই নয়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাদেরও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়েছেন ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও জয়-লেখকের বিভিন্ন অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশ কয়েকবার শাসান তাদেরকে। ওবায়দুল কাদের বেশ কয়েকবার ‘শোভন-রাব্বানীর চেয়ে তোমরা আরও খারাপ’ এমন খেদোক্তি করেন জয়-লেখকের উদ্দেশে। গত নভেম্বর মাসে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে ওই জেলার আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জয়-লেখকের বিরুদ্ধে ওবায়দুল কাদেরের কাছে অভিযোগ জানান। ওই জেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আওয়ামী লীগ নেতার দাবি, টাকার বিনিময়ে কমিটি দিয়েছেন জয়-লেখক। তাদের কোনো পরামর্শ নেননি ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা।
ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাড়ি। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র একসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের নেতা বানানোর জন্য কয়েকটি নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বরং কোনোদিনও ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিল না এমন একজনকে সভাপতি এবং বিএনপি মহাসচিবের ছোট ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজনকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন জয়-লেখক। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিতর্কিত দুজনকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বানানোর পর ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই ঠাকুরগাঁওয়ে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই দুজনকে নেতা বানাতে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন মির্জা ফখরুলের ভাই। জয়ের ভায়রা বলে পরিচিত পলাশের মাধ্যমে নেতা বানানো হয় ওই দুজনকে।’
এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমও দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সামনে ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা জয়-লেখকের বিরুদ্ধে পদবাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন।
আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, জয়-লেখকের বিরুদ্ধে ওবায়দুল কাদের নিজেও ছাত্রলীগকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা চার আওয়ামী লীগ নেতার কাছে কয়েক দফায় অভিযোগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অনেক নেতাও জয়-লেখককে ফোনে পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক অনেক ইউনিট নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা জয়-লেখকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রলীগকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক আওয়ামী লীগ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জয়-লেখকের ঔদ্ধত্য আমাদের অবাক করে।’
তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘এই সংগঠন নিয়ে একটি মহল চক্রান্ত শুরু করেছে।’
ইউনিট কমিটি কেন দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। যেসব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয়নি শুধু সেসব ইউনিটে প্রেস রিলিজ দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন পুরোদমে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছি।’
আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ইউনিট কমিটি ঘোষণার সব অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন লেখক। কেন্দ্রীয় সভাপতি জয়ের ভায়রা হিসেবে পরিচিত পলাশের নির্দেশনায় আসলে ছাত্রলীগ চলে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই নামে কাউকে আমি চিনি না।’
তবে সংগঠন পরিচালনায় অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত রবি ও সোমবার তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
