‘যৌন নিপীড়ক’ ফিরোজা নাজনীনের শাস্তি চেয়ে মানববন্ধন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:২০ পিএম

সম্প্রতি গাজীপুরে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে কিশোর ও যুবককে আটকে রেখে ‘যৌন নির্যাতনের’ অভিযোগ উঠেছে। ঢাকাই শোবিজের নায়ক অভিকে ওই কেন্দ্র থেকে উদ্ধারের পর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ ঘটনায় র‌্যাব ওই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারও করেছে।

ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র নামের ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ফিরোজা নাজনীন বাঁধনের (৩৫) শাস্তি দাবি জানিয়েছে ‘এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘পুরুষ যৌন নির্যাতন’ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছে সংগঠনটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এবং এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাহিন মুর্তজা অনিকের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ মাহমুদ। এ ছাড়াও অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মানববন্ধন কর্মসূচির সঙ্গে ছিলেন এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খান।

মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আহ্বায়ক মাহিন মূর্তজা বলেন, একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি যে, গাজীপুরের ‘ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ আশ্রিত অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফিরোজা নাজনীন বাঁধন (৩৫)। এ ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার নামে, পছন্দের পুরুষ রোগীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন বলেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার এই বিকৃত আচরণ ও জঘন্য অপরাধকে ‘ধর্ষণ’ ব্যতীত অন্য কিছু বলার সুযোগ নেই। একজন ধর্ষক, ধর্ষণের অপরাধের জন্য যেই শাস্তি পান, ফিরোজা নাজনীন বাঁধনকেও একই শাস্তি প্রদান করার দাবি জানাচ্ছি।

এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, একজন নারী যে একজন পুরুষের ওপর যৌন নির্যাতন করতে পারে ও পুরুষকে ধর্ষণ করতে পারে, এই ধারণাটি উন্নত বিশ্বে স্বীকৃত হলেও, বাংলাদেশের বর্তমান আইনে স্বীকৃত নয়।

তিনি আরও বলেন, নাজনীনের মতো যৌন নিপীড়নকারী ধর্ষকদের ধর্ষণের চূড়ান্ত শাস্তি প্রদান করতে হবে। আইনে ধর্ষণের লিঙ্গ-নিরপেক্ষ সংজ্ঞায়ন করতে হবে এবং দণ্ডবিধি ৩৭৫ ধারার লিঙ্গনিরপেক্ষ সংস্কার করতে হবে।

এইড ফর মেনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ মাহমুদ বলেন, চিত্রনায়ক অনিক রহমান অভিসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও র‍্যাবের তদন্তের মাধ্যমে সামনে এসেছে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে ফিরোজা নাজনীন কর্তৃক কিশোর ও পুরুষদের ওপর নারকীয় যৌন নিপীড়ন এবং জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনে পুরুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের বাধ্য করার বর্ণনা। যা অবশ্যই ‘ধর্ষণ’ হিসেবে বিবেচ্য।

এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খান মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে বলেন, ‘ধর্ষণের আন্তর্জাতিক ও সর্বজনীন ধারণা ও সংজ্ঞা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি যদি অপর একজন ব্যক্তির সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে সেটাকে ধর্ষণ বলে। ফিরোজা নাজনীন বাঁধন সেই কাজটিই করেছেন, তিনি মাদকাসক্ত কিশোর ও পুরুষদের শারীরিক নির্যাতনপূর্বক তাদের সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। সুতরাং তিনি একজন ধর্ষক এবং ধর্ষণের শাস্তিই তার প্রাপ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত