চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে বাকি ছয় মাসে তার থেকে আরও প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স আশা করছে সরকার। কিন্তু মালয়েশিয়া, ওমানসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স যে হারে কমছে, তাতে এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স আসা কমেছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। আলোচিত সময়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ ৫২ কোটি ১৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) একই সময়ে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশটি থেকে ১১৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
রেমিট্যান্স প্রেরণকারী শীর্ষ দেশ সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্সে আসা কমেছে ২১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলার; যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স আসা কমেছে ৪০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা দুবাই থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৮১ কোটি ৫২ লাখ ডলার; যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩৭ কোটি ডলার।
ওমান থেকে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। আলোচিত সময়ে ওমান থেকে ৪৮ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯২ কোটি ডলার।
সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৪৩ শতাংশ। দেশটি থেকে গত ৬ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২০ কোটি ডলার; যা এর আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ছিল ৩৫ কোটি ডলার।
যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স আসা কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। আলোচিত ৬ মাসে যুক্তরাজ্য থেকে ৮৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা; যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০২ কোটি ডলার।
কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স আসা কমেছে ৯ শতাংশ। দেশটি থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৪ কোটি ডলার; যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯২ কোটি ডলার।
রেমিট্যান্স বেড়েছে যেসব দেশ থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। দেশটি থেকে গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬৯ কোটি ২১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা; যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬৫ কোটি ডলার।
ইত্যালি থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২ শতাংশ। দেশটি থেকে গত ছয় মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৫০ কোটি ডলার; যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪১ কোটি ডলার।
কাতার থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১ শতাংশ। দেশটি থেকে আলোচিত ছয় মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই দেশ থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৭ কোটি ডলার।
সেই হিসাবে শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশের মধ্যে ৭টি থেকেই রেমিট্যান্স আসা কমেছে। সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ২৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার; যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের ২০ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৯৪ কোটি ৪৮ লাখ ডলার।
তবে এই অর্থবছরের বাকি ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) আরও ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ লক্ষ্যে রেমিট্যান্সের ওপর দেওয়া প্রণোদনা শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ায় সরকার। ১ জানুয়ারি রেমিট্যান্সের প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্সের ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত প্রণোদনা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ পুষিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। এর ফলে ওই অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। এর পরের অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স কমতে থাকায় বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রণোদনা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়।
