গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বহুল আলোচিত স্বপ্না (১৯) হত্যার তিন বছর পর রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাদক লেনদেনের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পিবিআই জানিয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর গত মঙ্গলবার তারা গাজীপুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহত স্বপ্না কালিয়াকৈর উপজেলার দক্ষিণ ভান্নারা এলাকার কেয়াম উদ্দিনের মেয়ে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কালিয়াকৈর থানার বরাব মসজিদ মার্কেট এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২৮), একই থানার ভান্নারা এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে নাহিদ হোসেন (২৮) ও বরাব পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৪৬)। তাদের গত সোমবার রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে পারেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কালিয়াকৈর থানার ভান্নারা এলাকার একটি কাঠবাগানের গর্ত থেকে স্বপ্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বপ্নার চাচা আবুল হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি গাজীপুর পিবিআই তদন্ত শুরু করে।
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, মামলার আসামিরাসহ স্বপ্না এলাকায় মাদকসেবী ও মাদক কারবারি হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মাদকের লেনদেন এবং চট্টগ্রামের এক মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে খুন হন স্বপ্না। আসামিরা ঘটনাস্থলে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে পরবর্তীকালে শ^াসরোধে হত্যা করে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামি মো. আলী ও নাহিদ হোসেনকে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং অপর আসামি সুজনকে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
