বিধিনিষেধে কাজ হারানোদের ৭ শতাংশ এখনো বেকার

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৫১ এএম

করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন বিবিধিনিষেধের কারণে ঢাকা শহরের বিভিন্ন খাতে চাকরি হারানো শ্রমিকদের ৭ শতাংশ এখনো বেকার। গত বছর ৫ এপ্রিল থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত শহরের পরিবহন, দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের ৮৭ শতাংশ শ্রমিক কাজ হারিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) ‘ঢাকা শহরের পরিবহন, দোকানপাট এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের ওপর সাম্প্রতিক লকডাউনের প্রভাব নিরূপণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বিলস। তাতে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে শ্রমিকদের বড় অংশ কাজে যোগ দিলেও সার্বিকভাবে তাদের আয় কমেছে ৮ শতাংশের বেশি। বিলসের গবেষণায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি পরিবহন খাতের শ্রমিকদের ৯৫ শতাংশ, দোকানপাট শ্রমিকদের ৮৩ শতাংশ এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের ৮২ শতাংশ কর্মসংস্থান হারান। লকডাউনপরবর্তী সময়ে ৯৩ শতাংশ শ্রমিক চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছেন, ৭ শতাংশ শ্রমিক এখনো বেকার রয়েছেন। তবে লকডাউন সময়ে এসব খাতে খন্ডকলীন শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ২১৫ শতাংশ বেড়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিলস। 

অন্যদিকে লকডাউনে তিনটি খাতে কর্মদিবস কমেছিল ৭৩ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ৯২ শতাংশ কর্মদিবস কমেছে পরিবহন খাতে। লকডাউনপরবর্তী সময়ে অবশ্য কাজের চাপ বেড়েছে, কার্যদিবস এবং কর্মঘণ্টা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, লকডাউনে তিনটি খাতের শ্রমিকদের আয় গড়ে ৮১ শতাংশ কমেছে। সবচেয়ে বেশি পরিবহন খাতের শ্রমিকদের ৯৬ শতাংশ এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের আয় কমেছে ৮৩ শতাংশ। যেখানে লকডাউনের আগে মাসিক গড় আয় ছিল ১৩ হাজার ৫৭৮ টাকা সেটা লকডাউন সময়ে নেমে এসেছিল ২ হাজার ৫২৪ টাকায় এবং লকডাউনপরবর্তী সময়ে আয় দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫২৯ টাকা। অর্থাৎ লকডাউনপরবর্তী সময়েও ৮ শতাংশ আয়ের ঘাটতি থাকছে।

লকডাউনে শ্রমিকদের পরিবারে আয় এবং ব্যয়ের ঘাটতি ছিল প্রায় ৭৭ শতাংশ, সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পরিবহন খাতের এবং সর্বনিম্ন ৪৬ শতাংশ রয়েছে খুচরা দোকান বিক্রেতা খাতের শ্রমিক পরিবারের। ২০ শতাংশ শ্রমিক পরিবার সম্পত্তি বিক্রি, খাবার কমিয়ে দেওয়া এবং সন্তানদের কাজে পাঠানোর মাধ্যমে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেছে। ৮০ শতাংশ শ্রমিক পরিবার ধার করে এবং সঞ্চয় কমিয়ে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করছে। লকাডাউনপরবর্তী সময়ে সঞ্চয় কমেছে ৬৪ শতাংশ এবং সঞ্চয়কারীর সংখ্যা কমেছে ৫০ শতাংশ।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বিলস উপ-পরিচালক (গবেষণা) মো. মনিরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিলস ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন, পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ এবং নাজমা ইয়াসমীন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত